মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

রাজধানী উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও বাণিজ্যিক এলাকায় ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। জনসাধারণের চলাচলের জন্য নির্মিত ফুটপাত এখন দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, আজমপুর, হাউজবিল্ডিং, টঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতজুড়ে গড়ে উঠেছে শত শত অস্থায়ী দোকান। পোশাক, ফলমূল, খাবার, মোবাইল অ্যাকসেসরিজ থেকে শুরু করে নানা ধরনের পণ্যের ব্যবসা চলছে প্রকাশ্যে। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে চলাচল করতে হচ্ছে, যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দোকান বসানোর পেছনে রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করা হয়। এই চাঁদার পরিমাণ মিলিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা লেনদেন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
নাগরিকদের প্রশ্ন, দিনের পর দিন প্রকাশ্যে ফুটপাত দখল হয়ে থাকলেও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে বিষয়টি না আসা কীভাবে সম্ভব? অনেকের মতে, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির অভাবেই দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “ফুটপাত মানুষের হাঁটার জন্য, ব্যবসার জন্য নয়। কিন্তু এখন ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে। শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচল সবচেয়ে বেশি কষ্টকর হয়ে উঠেছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অবৈধ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন নগরবাসী। তাদের দাবি, জনস্বার্থে অবিলম্বে অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হোক এবং যারা অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
উল্লেখ্য: কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ নীতি। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন