শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন
সম্প্রতি রাজধানীর ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করার পর এক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল নগরবাসী। প্রশস্ত রাস্তা আর জঞ্জালমুক্ত ফুটপাতে হাঁটার সময় মনে হয়েছিল, শৃঙ্খলা ফিরছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই পরিচ্ছন্ন রূপটি স্থায়ী হয়নি। কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবারও হকার আর অবৈধ স্থাপনার দখলে চলে গেছে হাঁটার পথ। আমাদের মানসিকতার এক অদ্ভুত দ্বিচারিতা এখানে স্পষ্ট। একদিকে আমরা সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশ চাই, পরিষ্কার রাস্তা আর আধুনিক জীবনযাত্রার স্বপ্ন দেখি। আবার সেই আমরাই ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করি বা সস্তায় কেনাকাটা করতে গিয়ে সেই বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দিই। দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করার চেয়ে সরকারি জায়গা দখল করে ভোগ করাটাকেই অনেকে বীরত্ব মনে করেন। আমরা সরকারের কাছে একদিনেই রাতারাতি উন্নয়ন চাই, কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদের যে দায়িত্ব—আইন মেনে চলা এবং শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা—তা পালনে আমরা ভীষণ উদাসীন। সরকার যখন উচ্ছেদ অভিযান চালায়, তখন আমরা অনেকে ‘মানবিকতার’ দোহাই দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াই। আবার যখন চলাচলে সমস্যা হয়, তখন গালি দিই সরকারকেই। আসলে একটি উন্নত রাষ্ট্র কেবল সরকারের একার প্রচেষ্টায় তৈরি হয় না। সিঙ্গাপুর বা জাপানের মতো দেশগুলো সুন্দর হওয়ার পেছনে রয়েছে তাদের জনগণের কঠোর শৃঙ্খলাবোধ। আমরা মুখে সভ্য দাবি করলেও আমাদের কর্মকাণ্ডে অনেক সময় অসভ্যতার ছাপ ফুটে ওঠে। যতক্ষণ না আমরা নিজেদের মানসিকতা পরিবর্তন করব এবং দেশকে নিজের ঘরের মতো ভালোবাসতে শিখব, ততক্ষণ কেবল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। উন্নয়ন যেমন অধিকার, তেমনি উন্নয়ন বজায় রাখা সকল নাগরিকের কর্তব্য। আমরা কি পারব সেই নাগরিকত্বের পরিচয় দিতে?