
টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারী কথিত ঠিকাদার ফরিদ আলম ওরফে ইয়াবা ফরিদ ওরফে নেতা ফরিদ বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ কক্সবাজার ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। আটক ফরিদ হোয়াইক্যং ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়া এলাকার ইদ্রিস মিয়া ওরফে পাগলা ইদ্রিসের ছেলে বলে জানাগেছে। এসময় তার অন্যতম সহযোগী ইউনিয়নের অন্যতম আরেক ইয়াবা কারবারী নয়াপাড়া এলাকার মাষ্টার ইসমাইলের ছেলে মৎস্যজীবি দলের নেতা মুফিজ উল্লাহ ওরফে আজম ও আলীর জাহাল এসএম পাড়া এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে কাসুপির রহমান সারুপকে আটক করেন ডিবি পুলিশ।
ডিবি পুলিশ সুত্র জানায়, ১৩ জুন (শনিবার) সকাল ১১টা ৩৫মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের উপ পুলিশ পরিদর্শক এস আই রঞ্জন বিশ্বাসের নেতৃত্বে ভোলা বাবুর পেট্টোল পাম্প এলাকায় একটি নোহা গাড়ীকে তল্লাশীর জন্য চ্যালেঞ্জ করেন। এসময় গাড়ীতে থাকা যাত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রামে যাচ্ছেন বলে পুলিশের সাথে বাক বিতন্ডা করেন। পুলিশের সন্দেহ হলে যাত্রীসহ নোহা গাড়ীটি কলাতলী খাঁন অটো মটরসে নিয়ে আসেন। এক পর্যায়ে গোয়েন্দা পুলিশ গাড়ীটি তল্লাশী চালিয়ে ৮হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হন। এসময় ইয়াবা পাচারের ব্যবহ্নত নোহা গাড়ীটি জব্দ করেন পুলিশ। পাশাপাশি ইয়াবাসহ আটক ইয়াবা ব্যবসায়ী কথিত ঠিকাদার ফরিদ আলম, মৎস্যজীবি দল নেতা মুফিজ উল্লাহ ওরফে আজম এবং কাসুপির রহমান সারুপকে হাতে নাতে আটক করেন। গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ (পরিদর্শক) ওসি মশিউর রহমান সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এদিকে স্থানীয় সুত্র জানায়, ফরিদ ঠিকাদারীর আড়ালে এতদিন ইয়াবা করে আসছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরপরই তিনি হয়ে উঠেন হোয়াইক্যংয়ের ইয়াবা কিং। তার নেতৃত্বে পুরো ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে বিশাল ইয়াবা সিন্ডিকেট। দলীয় পরিচয়ে তিনি প্রশাসনের কাউকেই পাত্তা দিতেন না। এই সুযোগে দিবারাত্রি বিলাসবহুল গাড়ীতে করে ফরিদ গং ইয়াবা পাচার করে আসছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মিটিংয়ে যাওয়ার সুযোগে ইয়াবা নিয়ে কক্সবাজার পৌঁছলেই গোয়েন্দা পুলিশের জালে আটকা পড়েছেন। এদিকে ডিবি পুলিশের হাতে ফরিদ ও আজ আটক হওয়ার খবরে তাদের এলাকায় সাধারণ মানুষকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অনেকে ফরিদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন।