মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন

শাহাদাৎ হোসেন (ইমরান) :
৫ই আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফ্যাসীবাদী স্বৈরাচারী সরকারের পতন হলেও গত ১৬ বছরে তৈরি হওয়া স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদ গোষ্ঠীর অপতৎপরতা এখনো বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় রয়েছে।
প্রশাসনের ভিতর ফ্যাসীবাদের দোসররা এখনো লুকিয়ে থেকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবার চেষ্টায় মরিয়া। ফ্যাসীবাদের পতন হলেও ষড়যন্ত্র বন্ধ হয় নাই। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তারা ফায়দা লোটার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ভিতর লুকায়িত থাকা আওয়ামী লীগের দোসররা সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
তেমনি একজন ড. মোঃ শফিকুল আলম। ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের সময় ১৮/০৫/২০১৮ তারিখে বাউবিতে রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে বিভিন্ন অপকর্ম ও দুর্ণিতির সাথে জড়িয়েছেন। ভূয়া মুক্তিযুদ্ধার সনদ ব্যবহার করে বাউবিতে রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
১৬/০৫/১৯৯৫ তারিখে সহকারী পরিচালক পদে
বাউবিতে নিয়োগ পাওয়ার পর হতে অসংখ্য আত্বীয়-স্বজন নিয়োগ দিয়েছেন। দুর্নিতির আশ্রয় নিয়ে নিজের বোন জামাই আবু বাক্কারকে আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।বাক্কারকে দিয়ে রাজশাহীতে গড়ে তুলেছেন ডেভালপার ব্যবসা।
নিয়োগ বানিজ্যে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে কম যোগ্যতা সম্পন্নকে নিয়োগ দানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন অর্থের বিনিময়ে। শিক্ষা জীবনে তৃতীয় বিভাগ থাকায় এবং নিয়োগের যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করার পরও ভিসির প্রটোকল অফিসার পদে নিজের আস্থাভাজনকে নিয়োগ দেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল ও গাজীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি জাহিদ আহসান রাসেলের আস্থাভাজন শাহরিয়ার শাহানকে নিয়োগের যোগ্যতার ও অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ না হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দানের পর শাহরিয়ার শাহানকে নিজের ধর্মের ভাই বলে পরিচয় করে দেন সবার সাথে। কতিথ রয়েছে, রেজিস্ট্রারও ট্রেজারার তাদের ক্ষমতাবলে রেজিস্ট্রারের মেয়েকে স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট এর শিক্ষক হিসেবে নিয়োগদানের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাউবির বর্তমান রেজিস্ট্রার ড. মোহা শফিকুল আলম ও বাউবির বর্তমান ট্রেজারার সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। অনেক রক্ত আর জীবনের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশে শুধুমাত্র আত্বীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এখনো ফ্যাসিবাদমুক্ত হতে পারছে না।
জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ মতে বেতন স্কেলে সর্বোচ্চ ধাপে পৌছার ১ বছর পর পরবর্তী গ্রেড পাওয়ার বিষয়টি স্পস্টভাবে স্থগিত করা হলেও সে শর্ত লঙ্ঘন করে তিনি সে সুবিধা গ্রহণ করেছেন। অথচ বাউবিতে অসংখ্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী তার আমলে চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ সে বৈষম্য নিরসনে কমিটি করে দিলেও তা বর্তমান রেজিস্ট্রার বহাল থাকার কারণে আলোর মুখ দেখছে না। উপরন্তু বৈষম্য নিরসন কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে রেজিস্টারের পকেটের লোককে। যার কারণে বাউবির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ বৈষম্য নিরসনের উদ্যোগটির বিষয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপরোক্ত অভিযোগ সমূহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে মত প্রকাশ করেছেন তারা আরো বলেন রেজিস্ট্রার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলী, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালকের মত সুবিধাবাদীদের মসনদে বসার সুযোগ করে দিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসরদের ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী মত প্রদান করেন। অনেক জীবন আর রক্তে বিনিময় বাংলাদেশ ফ্যাসিস্ট আওয়ামিলীগ মুক্ত হলেও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এখনো ফ্যাসিস্ট আওয়ামিলীগ হেকে মুক্ত হতে পারেনি। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো আওয়ামিলীগ দোসর দালালদের ভিড়ে দাড়ানোর জায়গা পাওয়া যায়না এবং গাজীপুর ক্যাম্পাস এখনো আওয়ামিলীগের দাপটের কাছে অসহায় হয়ে পরেছে বলে ফ্যাসিবাদ বিরোধী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের অনেকে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি আওয়ামি ফ্যাসিস্টদের প্রভাব থেকে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্ত করার জন্য এবং আওয়ামি ফ্যাসিবাদের দোসরদের এখনো যাঁরা জায়গা করে দিচ্ছে সেই সব আওয়ামী দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মাননীয় উপাচার্য ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে তারা অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে ড. মোঃ শফিকুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।