মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামীণ সড়কে দিন দিন বেড়েই চলেছে ব্যাটারিচালিত ও অটোরিকশার সংখ্যা। যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা এবং ট্রাফিক বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ হিসেবে বেপরোয়া অটোরিকশা চলাচলকে দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তবে নানা উদ্যোগ গ্রহণের পরও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সাফল্য পাচ্ছে না সরকার।
সড়কে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে অটোরিকশা চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেক চালকের নেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা বৈধ কাগজপত্র। ফলে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে শহরের ব্যস্ত সড়ক, মহাসড়কের সংযোগ পথ এবং বাজার এলাকায় বেপরোয়া অটোরিকশার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, অটোরিকশা জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও স্বল্প খরচের পরিবহন ব্যবস্থা হলেও এর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। অনেক এলাকায় প্রশাসনের অভিযান চললেও কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
সরকার বিভিন্ন সময়ে অবৈধ ও অননুমোদিত যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তবে বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, ক্রমবর্ধমান চাহিদা, বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাব এবং স্থানীয় পর্যায়ে দুর্বল নজরদারির কারণে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, শুধু অভিযান নয়, চালকদের প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন ব্যবস্থা কঠোর করা এবং সড়কে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বেপরোয়া অটোরিকশার কারণে সড়ক নিরাপত্তা ও জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, জনগণের যাতায়াত সুবিধা বজায় রেখে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার, চালক এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এতে যেমন দুর্ঘটনা কমবে, তেমনি সড়কে শৃঙ্খলাও ফিরে আসবে।