1. amarpranerbd@gmail.com : news :
  2. amarpranerbangladesh@gmail.com : PRANER BD REPORTER : PRANER BD REPORTER
  3. editor.amarpranerbd.official@gmail.com : Newsdesk :
শিরোনাম :
কবে হবে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত আজ থেকে নিষেধাজ্ঞা শেষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনে ফিরছেন জেলে-বাওয়ালিরা কেশবপুরে জামায়াতে ইসলামীর ইউনিট দায়িত্বশীল সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত সওজ’র গাফলতি চরমে,অকেজো হচ্ছে কোটি টাকার ফেরি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চৈতী কম্পোজিট  লিঃকে ৭৫ লক্ষ ৪ হাজার টাকা জরিমান ধার্য করা হয়  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মোহনগঞ্জে পতাকা উত্তোলন ও রেলিতে এমপি বাবর- নবনির্মিত প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ মানুষের কল্যাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম – মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ৪ নং পৈল ইউনিয়ন বাসীকে ভালবাসা ও শুভেচ্ছা জানালেন ফ্রান্স প্রবাসী ৪ নং পৈল ইউনিয়নের  চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ সোহেল রানা ভাই ।  শিবচরে গণউন্নয়ন সমবায় সমিতির প্রতারণায় নিঃস্ব নিম্নআয়ের মানুষ মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন বিএনপি’র ৪৮- তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে শীতলক্ষ্যা নদীতে মৎস্য অবমুক্ত করন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

জোরপূর্বক বিয়ে ও নৃশংস পাশবিকতার শিকার হাসিনা বেগম

ইসমাইল হোসেন
  • Update Time : Friday, August 5, 2022,
  • 10299 Time View

রাত ১০ টায় আবুল কালাম চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশ করে আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে। আমার টেইলারিং দোকান লুটপাট করা হয় এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আমাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কয়েকজন ব্যক্তি পালাক্রমে আমাকে ধর্ষণ করে। পরে বিবস্ত্র অবস্থায় আমার ছবি তুলে বাজারের পাশে ফেলে রেখে যায়। প্রতিবেশীরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমি ও আমার পরিবার ভয় ও আতঙ্কের কারণে মামলা করতে সাহস পাইনি।

বলছি ভোলা সদরের পাখির পোলের মোঃ শফিউল্লাহ মেয়ে হাসিনা বেগমের (৪৫) সাথে ৩০ শে জুলাই ২০২২ রাত ১০ টায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনা।

হাসিনা বেগম সাংবাদিকদের আরো জানান, আমার চাচা টানা ৩৫ বছর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলো । পারিবারিক ও রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে বিবাদীপক্ষ আমার চাচাকে হত্যা করে।

আমার বাবা ভোলা সদরে পাইকারি ও খুচরা ঔষধ বিক্রি করতো । আমাদের প্রতিষ্ঠানে ৮ জন কর্মচারী কাজ করতো। আমাদের পর্যাপ্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে এবং এলাকায় আমাদের পরিবারের ব্যাপক সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মান রয়েছে আপনারা খোজ নিয়ে দেখেন।

বিরোধের মূল কারণ তারা কখনোই আমার বাবাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারা। এ থেকেই তাদের মধ্যে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে বর্তমান চেয়ারম্যান তার ছেলে মনিরুল ইসলামকে নির্দেশ দেন যে, যেকোনো উপায়ে আমাকে বিয়ে করতে । কারণ, আমার চাচার দীর্ঘ ৩৫ বছরের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা আমাদের পরিবারের সাথে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়েছিল এবং সেই শত্রুতার ধারাবাহিকতায় আমাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) ২০০৪ রাত আনুমানিক ৮ টায় দিকে মনিরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা আমাকে আমার বাসা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে কাজী ডেকে আমার সম্মতি ছাড়া বিয়ে করে।

আমার বাবা বাধা দিলে তাকে লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়, ফলে তার দুই হাত ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর জখম হয়। আমার দুই ভাইও আহত হয়।

হাসিনা বেগম আরো জানান, পরদিন আমার চাচাতো ভাই পুলিশের সহায়তা নিতে গেলে চেয়ারম্যান থানাকে প্রভাবিত করে। আমাকে বলা হয় যে বিয়ে হয়ে গেছে এবং এখন মামলা করে কোনো লাভ হবে না, বরং পরিবারের বদনাম হবে। সেই পরিস্থিতিতে আমি বাধ্য হয়ে সংসার জীবন চালিয়ে যেতে থাকি।

বিয়ের পর আমি মনিরুল ইসলামের প্রকৃত চরিত্র সম্পর্কে জানতে পারি। সে প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় বাসায় ফিরে আমাকে মারধর করতো। আমার তিনবার গর্ভধারণ হয়েছে, কিন্তু তার নির্যাতনের কারণে কোনো সন্তানকে পৃথিবীর মুখ দেখাতে পারিনি।

পরবর্তীতে মনিরুল ইসলাম ব্যবসার কাজে দীর্ঘ সময় দুবাইয়ে অবস্থান করে এবং সেখানে আরেকটি বিয়ে করে, আমাকে না জানিয়ে। মনিরুল বিদেশে যাওয়ার আগে তার সঙ্গে আমার সম্পর্কের ফলে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। এ পুত্রসন্তানটি ও নষ্ট করার জন্য মনিরুল ইসলাম আমাকে বার বার পেশার ক্রিয়েট করে। সন্তানটি আমার মামার বাড়ি, বরগুনায় জন্মগ্রহণ করে।

হাসিনা বেগম আরো জানান, আমার ধারণা, মনিরুল ইসলাম মনে করতেন আমার সন্তান তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে। সে কারণে তিনি দুবাই থেকে আমার ও আমার পরিবারের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করে। এর অংশ হিসেবে আমার বাবার ফার্মেসিতে ডাকাতির ঘটনা ঘটানো হয়। এ বিষয় আজ প্রর্যন্ত কোন বিচার পায়নি।

যেহেতু মনিরুল ইসলাম আমাকে বা আমার সন্তানকে কোনো ভরণপোষণ দিতেন না, তাই জীবিকা নির্বাহের জন্য আমি স্থানীয় বাজারে একটি টেইলারিং দোকান চালু করি। কিন্তু আমার শশুর চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম আমাকে হুমকি দেন যে বাজারে ব্যবসা করলে তাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট হবে। তারপরও আমি নিজের ও আমার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ব্যবসা চালিয়ে যাই।

পরে মনিরুল ইসলাম তার পরিচিত আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে আমার সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করতে বলে। দীর্ঘদিন একাকী জীবনযাপন ও স্বামীর অনুপস্থিতির কারণে আমি তার কথায় বিশ্বাস করি। সে আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়। আমি তাকে বারবার আমার সন্তানের কথা জানাই এবং জিজ্ঞাসা করি, সে কি আমার সন্তানকে মেনে নেবে। সে সবকিছুতে সম্মতি জানায়।

কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারি, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত প্রতারণা। অর্থের বিনিময়ে আমাকে ও আমার সন্তানকে ক্ষতি করার ষড়যন্ত্র করে।

চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম , ছেলে মনিরুল,ও আবুল কালাম গ্যাং এর ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসিনা বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে আশা প্রতিবেশীরা জানান, বিবস্ত্র অবস্থায় হাসিনাকে আমার বাজারের পাশে পাই। হাসিনা একজন ভদ্র মেয়ে তার বাবা আমদের এলাকায় একজন সম্মানি ব্যাক্তি । এই মনিরুল ও চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মেয়েটার জীবন শেষ করে দিছে । আমরা সরকারের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে ০২/০৮/২০২২ হাসিনা বেগমের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, রোগীর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং শরীরের বেশ কিছু জায়গায় গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

এই বর্বরোচিত ঘটনার বিষয়ে ভোলা সদর থানা অফিসার ইনচার্জের (ওসি) কাছে জানতে চাওয়া হলে সাংবাদিকদের কোনো সদুত্তর দেননি তিনি, তবে একটি সাধারন ডায়েরি কথা জানান যার নম্বর- ১০/২০২২, তারিখ- ০৩-০৮-২০২২ ইং । পুলিশের এই রহস্যজনক নীরবতা ও বিবাদীপক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব ভুক্তভোগী পরিবারটিকে আরও বেশি অসহায় করে তুলেছে।

পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্মান ধূলিসাৎ করে একটি অসহায় পরিবারের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা সভ্য সমাজকে স্তব্ধ করে দেয়। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক বিয়ে, সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে ডাকাতি এবং সবশেষে গণধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের পরও অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন বিচারহীনতা ও চরম প্রাণভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে পরিবারটি এখন কেবল সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং এই প্রভাবশালী অপরাধী চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অপেক্ষা করছে।

Facebook Comments Box

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 প্রানের বাংলাদেশ