মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন

মমিনুল ইসলাম, জামালপুর প্রতিনিধিঃ
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপ- উপদেষ্টা আবুল মিয়া নিজ গুনেই জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন।
রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শীতার পরিচয় দিতে পারায় আবুল মিয়া আমৃত্যু জাতীয় পর্যায়ে মেলান্দহ মাদারগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতার উত্তর সুরীরা ছাত্র-জনতার বিপ্লব- ২৪ এর মাধ্যমে ফ্যাসিস আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করার ক্রমেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ।
মেলান্দহ – মাদারগঞ্জের বিএনপি’র সাবেক এমপি প্রয়াত আবুল মিয়ার সুযোগ্য ছেলে কর্নেল মোঃ রফিকুল হান্নান (অবঃ) জাতীয় রাজনীতি থেকে আঞ্চলিক রাজনীতি পর্যায়ে প্রাধান্য দিয়ে মেলান্দহ মাদারগঞ্জে বিচরণ করে প্রভাব বিস্তার করেছেন। কর্নেল মোঃ রফিকুল হান্নান (অবঃ) এর পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন বিএনপি পরিবারের সদস্য ছাত্রদল থেকে উঠে আসা বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পরীক্ষিত সৈনিকরা, নতুন প্রজন্মের মেধাবী তরুণেরা।
আবুল মিয়া ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর -৩ মেলান্দহ- মাদারগঞ্জ আসনে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনীত প্রার্থী হয়ে বিএনপি’র প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে বিপুল ভোটে মেলান্দহ বাসীর পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম এমপি নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এর ব্যাপক নাশকতা ও কঠোর বিরোধিতা সত্ত্বেও কর্নেল মোঃ রফিকুল হান্নান একজন সেনা কর্মকর্তা হয়েও বাবার পাশে থেকে নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন আর্মি অফিসার হিসেবে বিএনপির পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখেন কর্নেল মোঃ রফিকুল হান্নান (অবঃ)। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে বিএনপি সরকার কর্নেল মোঃ রফিকুল হান্নান (অবঃ) এর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রেখে তাকে সেনাবাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ডিজিএফআই এর পরিচালকের দায়িত্ব দেন।
২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের পক্ষ নেওয়া এবং ১/১১ এর বিরুদ্ধে অবস্থান করায় তিনি প্রমোশন থেকে বঞ্চিত হয়ে কর্নেল হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। কর্নেল মোঃ রফিকুল হান্নান আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেলান্দহ -মাদারগঞ্জ থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি সভা সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন। ৫ আগস্ট এর পর সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জে অবস্থান করতেছেন। কর্নেল মোঃ রফিকুল হান্নান (অবঃ) এ প্রতিবেদককে বলেন, এ আসন থেকে আমার বাবা নির্বাচন করে এমপি হয়েছেন নাড়ীর টানে আমি এখান থেকে বাবার দেখানো পথ ধরে বিএনপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে চাই। আমি দীর্ঘদিন ধরে এখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়ে আসছি, প্রচারণও চলছে। দুই উপজেলার বিএনপি’র পরিবারের সদস্যরা ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতাকর্মীরা ধানের শীষের ভোটার ও সাধারণ ভোটার আমার পক্ষে আছেন।
মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রবীণ নেতা হাসানুজ্জামান বাদল তালুকদার, উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি সাংবাদিক আজম খান, মেলান্দহ পৌর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম রেজা সাংবাদিক কে বলেন, জামালপুর তিন মেলান্দহ -মাদারগঞ্জ আসন বিএনপির উর্বর মাটি ও ঘাঁটি এ আসন থেকে কোন ভাড়াটিয়া নেতা কে নয় বিএনপি পরিবারের কোনো সদস্যকে দলীয় মনোনয়ন দিলে সেই প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আসবেন। মাদারগঞ্জ উপজেলার এক প্রভাবশালী প্রবীণ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের আসনে একজন হেভিওয়েট প্রার্থী কর্নেল রফিকুল হান্নান আছেন। আমরা চাই তার বাবার ন্যায় এখানে তাকে দলের প্রার্থী করা হোক। এলাকায় তার বাবার ও তার বিপুল জনপ্রিয়তা আছে। মেলান্দহ মাদারগঞ্জের জনগণ তার সাথেই থাকবে ইনশাল্লাহ।
বিএনপির প্রবীণ নেতাকর্মীরা বলেন, বিএনপি পরিবারের পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই পারে মেলান্দহ মাদারগঞ্জ ফ্যাসিস আওয়ামী লীগের বিপক্ষে ও মির্জা পরিবারের ১৫ বছর গোলামী থেকে মুক্ত করতে। তারা বলেন ক্লিন ইমেজ ধারী বিএনপি পরিবারের সদস্য সাবেক এমপি আবুল মিয়ার ছেলে কর্নেল মোঃ রফিকুল হান্নান রাজনীতি ও নির্বাচনে আগ্রহী হয়ে ওঠায় মেলান্দহ মাদারগঞ্জের বিএনপি পরিবার, তরুণ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে রাজনীতির উৎসাহ বাড়ছে।