মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

মনিরুজ্জামান মনির :
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম দাবি করেছেন যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনে ‘ফ্যাসিস্ট’ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে না এবং এ দুটি দলকে নিষিদ্ধ করতে হবে । তিনি নির্বাচন কমিশনকে এনসিপিকে তার নির্বাচনী প্রতীক ‘শাপলা’ প্রদান না করার সিদ্ধান্তকেও ‘ব্যর্থতা’ আখ্যা দেন ।
বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারে দলের এক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনাকালে সারজিস আলম নিম্নলিখিত মূল বক্তব্য তুলে ধরেন :
দলীয় নিষেধাজ্ঞার দাবি: সারজিস আলম স্পষ্টভাবে বলেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এই দলগুলোকে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং তাদের বিচার করা উচিত” । তিনি তার বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলেন, “পৃথিবীর কোথাও বিপ্লবী ও পরাজিত ফ্যাসিস্ট একসঙ্গে রাজনীতি করতে পারে না” ।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা: তিনি নির্বাচন কমিশনকে এনসিপিকে ‘শাপলা’ প্রতীক দিতে না পারাকে ‘আইনগত বাধা না থাকা সত্ত্বেও চাপের কাছে নতি দেওয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, “এটি তাদের ব্যর্থতা, তারা এতটুকু সাহসও দেখাতে পারছে না” ।
সরকারের দুর্বলতা প্রকাশ: প্রধান উপদেষ্টার নিউ ইয়র্ক সফরে তার সঙ্গে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দেওয়াকে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের “দুর্বলতা” হিসেবে চিহ্নিত করেন। তার মতে, এই দুর্বলতার চিত্র এখন সারা দেশেই প্রতিফলিত হচ্ছে ।
জোট গঠনের আলোচনা: তিনি উল্লেখ করেন যে, অভ্যুত্থান ও রাজপথের আন্দোলনে গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি একসঙ্গে কাজ করছে এবং জনগণ চায় এই দুই দল একসাথে থাকুক। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এই বিষয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা চলছে ।
অন্যান্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াঃ সারজিস আলমের এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অবস্থান থেকে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের একটি চিত্র ফুটে ওঠে।
জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান: জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেন যে, “গণতন্ত্রবিরোধী ফ্যাসিস্ট শক্তি আওয়ামী লীগ নির্বাচনের জন্য যোগ্য কি না, সেটি জনগণই নির্ধারণ করবে” । তবে, তিনি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে “রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ” করার জন্য একটি নির্বাচনী পন্থা অবলম্বনের ইঙ্গত দেন ।
জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন: অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির একটি অংশ সম্প্রতি দলীয় কাউন্সিল করে নতুন কমিটি গঠন করেছে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে ‘রাজনৈতিক ভুল’ আখ্যা দিয়ে দেশবাসীর কাছে “ক্ষমা” প্রার্থনা করেছে । এটি দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিজেদের পুনর্বিন্যাসের চেষ্টাকে নির্দেশ করে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটঃ বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে । এমন প্রেক্ষাপটে, আওয়ামী লীগ-বিহীন একটি নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সারজিস আলমের এই মন্তব্য চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতের সরকার গঠন সম্পর্কিত বিতর্ককে আরও তীব্র করবে বলে প্রতীয়মান হয়।
উল্লেখ্য, সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশাম হক, যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাস এবং মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক ফাহাদ আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।