মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

(জনপ্রতিনিধি না থাকায় ঝিমিয়ে পড়েছে ডিএনসিসি’র মশক নিধন কার্যক্রম। প্রজনন মৌসুম বলে উৎপাত বেড়েছে মশার, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি। উত্তরা ও মিরপুর বাসী মশায় অতিষ্ঠ।)
শাহাদাৎ হোসেন (ইমরান) :
‘বিগত দিনে মশা বেড়ে গেলে কাউন্সিলর অফিসে গিয়ে অভিযোগ করতাম।কিছু না হলেও স্প্রে করত। এখন কিছুই দেখা যায় না। যেখানে অভিযোগ করব, সেই কাউন্সিলরদেরও অপসারণ করা হয়েছে। এখন কারা দ্বায়িত্ব পালন করছেন তাদের চিনিও না দেখাও যায় না।এখন মশার অত্যাচারে ঘর-বাড়িতে থাকাটাই কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে।’
কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের দক্ষিনখান এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম । শুধু দক্ষিনখানা নয়, বরং মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরবাসী। দিনে কিংবা রাতে-সব সময় কানের কাছে ভন ভন করছে মশা।
নগরবাসী বলছেন, জনপ্রতিনিধিরা না থাকার কারণে সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। আর সিটি কর্পোরেশন বলছে, এখন প্রজনন মৌসুম বলে মশার উৎপাত বেড়েছে।
এরই মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত চার মাসে কিউলেক্স মশার ঘনত্ব বেড়েছে। জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক প্রাপ্তবয়স্ক মশা ফাঁদে ধরা পড়েছে, যা অক্টোবর ও নভেম্বরে ছিল দুইশর কম। মশার ঘনত্ব বেশি পাওয়া গেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা, দক্ষিণখান ও মিরপুর এলাকায়।জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে মশা ফাঁদে ধরা পড়েছে ৪৫০। ডিসেম্বরে এর সংখ্যা ৩০০।ফেব্রুয়ারিতে ও মার্চে এ সংখ্যা আরো বেড়েছে বলে জানা যায়। এর মধ্যে দক্ষিণখানে ৪১০টি এবং মিরপুরে ৩৫০টি প্রাপ্তবয়স্ক মশা ধরা পড়ছে।
নিকুঞ্জ ২ এলাকার বাসিন্দা হাসান একটি অ্যাপার্টমেন্টের ছয়তলায় থাকেন। সেখানে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। বললেন, ‘মশা দিনের বেলায়ও গুনগুন করে। ছয়তলার ফ্ল্যাটে দরজা-জানালা বন্ধ করলেও মশার যন্ত্রণায় দিনের বেলায় স্প্রে করতে হয়। তার পরও মশার গান থামে না।’ মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। সিটি কর্পোরেশন এখনি কোন ব্যবস্থা না নিলে মশাবাহিত রোগ মহামারি আকার ধারণা করতে পারে।
দক্ষিনখান এলাকায় মুদি দোকান করেন সোহাগ জোয়ার্দার বলেন,সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকে। দোকান খোলার সঙ্গে সঙ্গে কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। তার পরও নিস্তার নেই। অবস্থাটা এমন, যেন কয়েলের ওপরেই মশা বসে থাকে।’
তিনি আরো বলেন,বাসা বাড়িতেও একই অবস্হা।তবে বিকেল হতেই মশা জেঁকে বসে। সাততলার ওপরেও মশা। মশক কর্মীদের এখন তেমন দেখাই যায় না। নগরবাসীর অভিযোগ, আগে সপ্তাহে একবার মশার ওষুধ ছিটালেও এখন এক মাসেও তাদের দেখা যায় না। তবে সিটি করপোরেশন দাবি করছে, তারা প্রতিদিন মশার ঔষুধ ছিটাচ্ছে। কিন্তু যে হারে মশার উপদ্রব বাড়ছে, তা নিধনে সিটি করপোরেশনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
রাজধানীর উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার চিত্র এমনই। এর মধ্যে মিরপুর, উত্তরা,বাড্ডা,গাবতলী, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, ও রামপুরার পরিস্থিতি বেশি খারাপ। ভয়াবহভাবে মশার উৎপাত বাড়লেও সিটি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। কার্যকর তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ নগরবাসীর।
উল্লেখ্য গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে পালিয়ে যান সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা। পরে অন্তর্বর্তী সরকার মেয়র ও কাউন্সিলরের স্থলাভিষিক্ত করে আমলাদের। তবে ছয় মাসেও শৃঙ্খলা ফেরেনি নগর ভবনে। আগে মেয়র ও কাউন্সিলররা নগরীর মশক নিধন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম দেখভাল করতেন। এখন প্রশাসক ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের ঘাড়ে এই মহাকর্মের ভারে এ কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির। জনপ্রতিনিধি না থাকায় ওয়ার্ড পর্যায়ে মশক নিধন কার্যক্রমে মাঠে নেই মশক কর্মীরাও।
ডিএনসিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মশা নিধনে আমরা নিয়মিত ক্রাশ প্রোগ্রাম, লার্ভিসাইড বা কীটনাশক প্রয়োগ করছি। কিন্তু তা তেমন কাজে আসছে না। তিনি বলেন, ড্রেন, ডোবা, নর্দমা, বিল-ঝিল-খালে পানির প্রবাহ নেই। এসব স্থানে দীর্ঘদিন মানুষ ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। এখানে লার্ভিসাইডিং ও ফগিং কোনো কাজে আসে না। একদিকে খাল-নর্দমা পরিষ্কার করলে আরেক দিকে ভরে যায়। এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ছাড়া মশক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।