মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (গাসিক) এর বিরুদ্ধে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে বিদ্যালয় নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জরুন এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তির ওপর জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর জেলার মিরপুর মৌজার ৬ শতাংশ জমি, যার সিএস খতিয়ান ৬৪ এবং এসএ খতিয়ান ১৮৫, দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখলে ছিলেন আব্দুল গফুর গং। তবে পরবর্তী আরএস রেকর্ডে জমিটি বাংলাদেশ সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত দেখানো হয়,পৈতৃক সম্পত্তি সরকারের নামে রেকর্ড হওয়াকে ভুল দাবি করে রেকর্ড সংশোধনের জন্য গাজীপুর জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন আব্দুল গফুর গং। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে মামলাধীন জমির ওপর বিদ্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেয় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। ইতোমধ্যে সেখানে বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর ও স্থাপনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিজেদের মালিকানাধীন দাবি করা সম্পত্তির ওপর বিদ্যালয় নির্মাণ বন্ধে পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হন গফুর গং। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে উক্ত জমিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আদালতের সেই আদেশ উপেক্ষা করেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে গাসিক।
সরেজমিনে গিয়ে অনুসন্ধান টিম দেখতে পায়, বিতর্কিত জমিতে বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কাজ বন্ধের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে কথা হলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা নাজরাতুন নাঈম অনুসন্ধান টিমকে বলেন, আমরা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো,একই ধরনের বক্তব্য দেন গাসিকের প্রকৌশলী তাকের। তিনি বলেন, আদেশের কপি অফিসিয়ালি হাতে এলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে,তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি মাসের শুরুতেই আদালত থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশের কপি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, ভুক্তভোগী আব্দুল গফুর অভিযোগ করে বলেন, নিজের শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় আদালতের আদেশের কপি হাতে নিয়ে তিনি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, নিকটস্থ কোনাবাড়ী থানায় গিয়েও কোনো আইনগত সহায়তা পাননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জন্মসূত্রে দীর্ঘদিন ধরে জরুন এলাকায় বসবাস করে আসছেন গফুর ও তার পরিবার। ভূমি রেকর্ড সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভুলের কারণে আজ তারা নিজেদের পৈতৃক ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো যদি নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় পাবে ন্যায়বিচার?