মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:১০ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা কোরবানি চামড়া আশীর্বাদ পরিবর্তে বোঝা হয়ে দাঁড়িল।টেনারি ও বড় বেপারিদের অনুপস্থিতির কারণে বিক্রিতো দূরের কথা বিনামূল্যে কেউ নেননি। ফলে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও রাস্তার পাশে ফেলে চলে গেলেন বিক্রেতারা। কোথাও কোথাও দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু হয়েছে। কোথাও আবার নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় উদ্ধিগ্ন সংলিষ্টরা।
উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের হরিনাদিঘী মাদ্রাসা কোরবানির পর জমা হয়েছিল ১০০টি চামড়া। প্রতিবছরের মতো এবারও সেগুলো বিক্রি করে মাদ্রাসার খরচের কিছু অর্থ জোগাড়ের আশা ছিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের। কিন্তু কোরবানের দিন রাত পেরিয়ে গেলে ও কেউ কিনতে আসেনি।
কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ করে বিনামূল্যে চামড়া নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু কেউ আগ্রহ দেখাননি। শেষ পর্যন্ত ২৯ মে শুক্রবার সকালে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে ৪ হাজার টাকা দিয়ে ট্রাক ভাড়া করে সরানোর ব্যবস্হা করা হয়।
২৯ মে শুক্রবার সকালে উপজেলার বিবিরহাট বাজারে ঘুরে দেখা যায় বিভিন্ন সড়ক, দোকানের সামনে ফুতফাতে সারি সারি চামড়া পড়ে আছে। কোনো কোনো জায়গায় স্তুপ বা ছড়িয়ে -ছিটিয়ে পরে রয়েছে। ইতিমধ্যেই দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে।
স্হানীয়রা জানা ঈদের দিনে দুপুর থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে বাজারে আন্তে শুরু করেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছরের ন্যায় এবার তারা আশা করেছিল ট্যানারির প্রতিনিধি বা বড় বড় পাইকারি ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে নিয়ে যাবেন। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও বড় কোন ক্রেতার দেখা মিলেনি।
মৌসুমি ব্যবসায়ী বেলাল বলেন গ্রানগঞ্জ থেকে চামড়া সংগ্রহ করতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। মনে করেছিল অন্তত কিছু লাভ হবে। এখন বাজার এসে দেখি চামড়া কেনার কোনো লোক নেই।
আরেক ব্যবসায়ী মোঃ আজম বলেন সরকার মূল্য ঠিক করে দিলেও মাঠে সেই মুল্যো কেউ কিনছে না। আমরা ১০০-১৫০ টাকায় চামড়া কিনেছি এখন বিক্রি করতে না পেরে বিপদে আছি।
কাঞ্চননগরের মৌসুমি ব্যবসায়ী মোঃ নুরুল আলম বলেন বর পাইকারি না থাকলে ছোট ব্যবসায়ীরা ঠিকে থাকতে পারে না। লবন,পরিবহণ শ্রমিকের খরচ দিয়ে এখন পুরোপুরি লোকসানে পড়ে গেছি।
আরেক ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, রাত ২টা পর্যন্ত বসেছিলাম।পরে অনেকটা খুব কম দামে বিক্রি করেছি। বাকি গুলো আর কেউ নেইনি। শেষে কিছু চামড়া ফেলে চলে যেতে হয়েছে।
আরেক ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, চামড়া বেশি দিন রাখা যায় না। দ্রুত বিক্রি না করলে নষ্ট হয়ে যায়। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে ফেলে চলে গেছে।
সরজমিনে গিয়ে বাজারে দেখা যায় কিছু কিছু চামড়ার পাশে কুকুর ঘুরাফেরা করছে। স্হানীয় বাসিন্দাদের আশংকা দ্রুত এসব অপসারণ না করলে দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষন আরো বারবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ প্রতি বছর ঈদের সময় ফটিকছড়ি বিভিন্ন বাজারে ট্যানারির প্রতিনিধি ও বড় পাইকারিদের উপস্থিত থাকলেও এই বছর তাদের দেখা মিলেনি। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
এই বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরপ্রশাসক সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন অবিক্রিত চামড়া যেই স্হানে পড়ে রয়েছে সেই গুলো দ্রুত অপসারণ করে পরিবেশসম্মত উপায়ে ব্যবস্হা নিতে হবে।
উল্লেখ্য যে ১৯৯৭ সালে ও একই অবস্থা ছিল। কিছু কিছু মৌসুমি ও মুনাফা লোভীরা এই অবস্থায় পরে।