
বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত বিক্রয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ বিক্রয় প্রতিনিধি জোট-এর উদ্যোগে রংপুর বিভাগীয় ও জেলা শাখার আয়োজনে এক আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় রংপুর মহানগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিক্রয় প্রতিনিধিদের অধিকার, চাকরির নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিতে ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
রংপুর বিভাগীয় বিক্রয় প্রতিনিধি ও কর্মকর্তা সংগঠনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইমরান আলী।
রংপুর বিভাগীয় বিক্রয় প্রতিনিধি ও কর্মকর্তা সংগঠনের সভাপতি রুহুল আমিন রুবেল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন মোহাম্মদ একরামুল হক এবং প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন দিদারুল ইসলাম জাহিদ।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরাজ হোসেন, হাবিবুর রহমান, আফজাল হোসেন এবং কামরুজ্জামান মিলনসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগের নেতৃবৃন্দ। সভার শুরুতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান রংপুর বিভাগীয় ও জেলা কমিটির নেতারা।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, দেশের লাখো বিক্রয় প্রতিনিধি দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য বেতন, চাকরির নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। তাদের অধিকার আদায় ও ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হচ্ছে।
সভায় বক্তারা বিক্রয় প্রতিনিধিদের জন্য ন্যূনতম মূল বেতন ২০ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া ৫ হাজার টাকা, চিকিৎসা ভাতা ২ হাজার ৬০০ টাকা এবং দুপুরের খাবারের জন্য ৫ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। পাশাপাশি বাজার ও কর্মক্ষেত্র অনুযায়ী টি-এ বিল নির্ধারণ, সকল বিক্রয় প্রতিনিধির চাকরি স্থায়ীকরণ, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গ্রুপ বীমা ও প্রফিট শেয়ারিং সুবিধা চালুর আহ্বান জানানো হয়।
তারা আরও বলেন, কোনো বিক্রয় প্রতিনিধিকে চাকরিচ্যুত করতে হলে চার মাসের অগ্রিম বেতনসহ সকল পাওনা পরিশোধ করতে হবে। কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় আহত হলে চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় কোম্পানিকে বহন করতে হবে এবং মৃত্যুবরণ করলে পরিবারকে এককালীন ১০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।
এছাড়া মুসলিমদের জন্য দুই ঈদে এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবে এক মাসের সমপরিমাণ বোনাস, সরকার ঘোষিত সকল ছুটি নিশ্চিতকরণ, ছুটির দিনে কাজ করালে অতিরিক্ত মজুরি প্রদান এবং প্রতিবছর ন্যূনতম ১০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবিও জানান বক্তারা।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, “বিক্রয় প্রতিনিধিরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। অথচ এই খাতের কর্মীরা এখনো শ্রম আইনের পূর্ণ সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। তাই সংগঠিত আন্দোলনের মাধ্যমেই অধিকার আদায় করতে হবে।