মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ব্যাপারীটোলা এলাকায় অবস্থিত দ্বি-মুখী আলিম মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক ভবন সংকটে ভুগছে। পর্যাপ্ত ও স্থায়ী ভবন না থাকায় নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর।
মাদ্রাসাটি ডিমলা উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি তিস্তা নদীর প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বাঘের পুল হতে জলঢাকা হাইওয়ে রোডসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। যোগাযোগ সুবিধাজনক হলেও অবকাঠামোগত দুর্বলতা প্রতিষ্ঠানটির অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীসহ মোট ৩৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিরলসভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ ও একাডেমিক ভবন না থাকায় অনেক সময় অস্থায়ী ব্যবস্থায় কিংবা সীমিত পরিসরে পাঠদান করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মান্নান বলেন,
“এই মাদ্রাসাটি সীমান্ত এলাকার দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবন না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ক্লাস পরিচালনা করা যাচ্ছে না। দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার পরিবেশ যেমন উন্নত হবে, তেমনি মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নও সম্ভব হবে।”
উপাধ্যক্ষ মাওলানা হাফিজুল ইসলাম বলেন,
“বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে অবকাঠামো উন্নয়ন অপরিহার্য। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এখানে একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।”
সহকারী অধ্যাপক মাওলানা আফজাল হোসেন বলেন,
“শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের কোনো কমতি নেই। তবে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিতে পারছি না। একটি আধুনিক একাডেমিক ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।”
শিক্ষকবৃন্দ আরও জানান, সীমান্তবর্তী ও অবহেলিত এই অঞ্চলে দ্বীনি ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে দ্বি-মুখী আলিম মাদ্রাসা একটি আশার বাতিঘর। কিন্তু অবকাঠামোগত সংকট নিরসন না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
পরে আলিম ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরাও জানায়, ভবন সংকটের কারণে তাদের নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
এলাকাবাসী ও শিক্ষানুরাগী মহল মনে করছেন, শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত দ্বি-মুখী আলিম মাদ্রাসায় একটি স্থায়ী ও আধুনিক একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা এখন সময়ের জোরালো দাবি।