মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

শেরপুর সদর আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেছেন, নারীর প্রকৃত মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) শেরপুরের বলায়েরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক নারী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।
ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা শাহাদাৎ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নারী উপস্থিত ছিলেন।
হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন মতবাদ নারীর মর্যাদা রক্ষার দাবি করলেও বাস্তবে তারা নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীই একমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন যেখানে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি, এবং সংগঠনের প্রায় অর্ধেক সদস্য নারী।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অনেক রাজনৈতিক দল কথায় নারীর অধিকার ও নিরাপত্তার কথা বললেও বাস্তবে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি দায়সারা।
তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীদের ঘরে আটকে রাখার কোনো নীতি থাকবে না। বরং কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
নারীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য—একজন নারী যেন রাতের বেলাতেও নিরাপদে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারেন, যেমনটি সম্ভব ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে।
তিনি জানান, শেরপুরে নারীদের জন্য আধুনিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা নেই।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন নির্বাচিত হলে নারীদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা, শতভাগ আবাসন সুবিধা এবং একটি মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, নারীদের এমন অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই যেখানে তাদের মর্যাদা অটুট থাকবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
বক্তৃতার শেষে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আমার ভোট আমি দেবো যাকে খুশি তাকে দেবো’ এমন ভাবনা নয়; বরং ন্যায়, সত্য, আমানতদারিতা ও তাকওয়ার অধিকারী প্রার্থীকেই ভোট দিতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সমর্থন পেলে শেরপুরকে একটি আদর্শ ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ হিসেবে গড়ে তুলবেন।