মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন

ঢাকার উত্তরা এলাকা একসময় রেস্টুরেন্ট ব্যবসার অন্যতম সবচেয়ে শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। বিশেষ করে চাইনিজ ক্যাটাগরিতে এখানে ছিল অসংখ্য ব্র্যান্ড, জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট ও ফুড লাভারদের নির্ভরস্থল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকেই হঠাৎ করে উত্তরা অঞ্চলের পুরো রেস্টুরেন্ট মার্কেটে এমন একটি অস্বাভাবিক ধস নেমে এসেছে যা বহু ব্যবসায়ী কল্পনাও করে নি।
এটা শুধু একজন-দুইজন উদ্যোক্তার সমস্যা নয়, প্রায় প্রত্যেক রেস্টুরেন্টের মালিকই একই ধরনের ক্ষতির মধ্যে আছেন। খরচ একই রকম কিন্তু সেল ৪০-৭০% পর্যন্ত কমে গেছে। প্রতিদিনের ভিজিটর সংখ্যা অর্ধেকের নীচে নেমে গেছে।
বিগত বৎসরগুলিতে উত্তরা অঞ্চল ছিল দেশের সবচেয়ে স্থিতিশীল ফুড জোন। এখানে প্রিমিয়াম এবং মিড রেঞ্জ চাইনিজ আইটেম যেকোনো সিজনেই সেল পেত। ঈদ, ক্রিকেট সিজন, কলেজ-ভার্সিটি ছুটির সময়, উইকএন্ড ফুড ট্রাফিক ছিল বিশেষভাবে পিক। ব্যবসার প্ল্যান, নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি ইনভেস্টমেন্ট, নতুন ব্রাঞ্চ সবকিছুই ছিল গ্রোথের দিকে।
৫ আগস্টের পর হঠাৎ যে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে তা একটাই কাস্টমারের খরচ করার উদ্যম নেই। অর্থনীতি, ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, ফুড কস্ট, আমদানী নির্ভর র-ইনগ্রেডিয়েন্টের দাম বৃদ্ধি — সব মিলিয়ে রেস্টুরেন্টের অপারেটিং কস্ট ঐতিহাসিক উচ্চতায়, কিন্তু কাস্টমার স্পেন্ডিং ঐতিহাসিক নিম্নমুখী।
দোকানের রেন্ট, স্টাফ সেলারি, গ্যাস-বিল কোনো কিছুরই কমার সম্ভাবনা নাই কিন্তু বিক্রি এমন লেভেলে নেমে গেছে যাতে করে ব্যবসা ধরে রাখা খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
উত্তরার চাইনিজ রেস্টুরেন্ট মার্কেট ভবিষ্যতে কোনদিকে যাচ্ছে সেটা এখন এক বড় প্রশ্ন। ব্যবসায়ীরা এখন হাই এন্ড দাম থেকে কম রেঞ্জে নামতে বাধ্য হবেন কিনা, বা মেনু পলিসি পরিবর্তন, পার্টনারশিপ, কনসেপ্ট শিফট, কিংবা অনলাইন সেল ফোকাস তা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত এখন সময়ের দাবি।
একথা নিশ্চিত যদি এই ক্রাইসিস ট্রেন্ড আগামী কয়েক মাসও চলতে থাকে, তাহলে অনেক রেস্টুরেন্ট বাধ্য হয়ে শাটডাউন বা রিস্ট্রাকচারিং এ যেতে পারে। আর উত্তরা যেটা ছিল একসময় ঢাকার ফুড কালচারের আইকনিক জোন ও সেটি বড় ধরণের ট্রান্সফরমেশন ফেজে ঢুকে যাচ্ছে।
ব্যবসার সবচেয়ে কঠিন সময় এখনই চলছে।
এটা শুধু একজন ব্যবসায়ীর নয় এটা পুরো উত্তরা খাবার শিল্পের বর্তমান বাস্তবতা।