মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যক্তিগত বিরোধ ও প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নিরীহ ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় সম্প্রতি ৩৮৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা ও রাজনৈতিক মামলা দায়েরের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলায় এমন অনেক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যারা ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে নিরপরাধ মানুষকে মামলায় জড়ানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই মামলা গ্রহণ এবং গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনার কারণে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে গিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা হলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে।
এছাড়াও দেশে চেক ডিজঅনার বা চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলাও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যবসায়িক লেনদেনের জটিলতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং পারস্পরিক বিরোধের কারণে বহু মানুষ আদালত ও থানামুখী হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে এসব মামলাকে চাপ সৃষ্টি বা হয়রানির হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলা গ্রহণের আগে আরও কঠোর তদন্ত ও তথ্য যাচাই প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরপরাধ ব্যক্তিদের দ্রুত মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে না পারলে বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং মিথ্যা মামলা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।