মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার চীফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন রবিউল আলম রাজু বিশেষ অভিযানে সাভারে ৩ ছিনতাইকারী-ডাকাত সদস্য গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ মনোহরদীতে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা ও সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে আন্তঃধর্মীয় নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে ডুবন্ত জাহাজে মিলল যুবকের অর্ধগলিত লাশ মনোহরদীতে,জমির জবর দখলের জেরে, বোনের প্রাপ্য জমি পাওয়ার লক্ষ্যে ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নীলফামারী ডোমার বীজ আলু খামারে ২শ একর জমিতে ধৈইঞ্চা চাষ, নীলফামারী ডোমার বিএডিসিতে নতুন সম্ভাবনা ২১১ একর জমিতে আউশ ধানের চারা রোপন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা বিএনপি নিকলীতে ৫২ লিটার চোলাই মদসহ নারী গ্রেপ্তার, স্বামী-সন্তান পলাতক পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুরে জেলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অস্থির লৌহজং, দুর্ভোগে জনজীবন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উদযাপন কোয়ান্টামের আয়োজনে আট শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে সম্মাননা পুলিশের সিভিলিয়ান কর্মচারী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী বিএনপি’র পরিচয়ে বেলাল হোসেন ও হাসিনা শিরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী বোম্বাই মরিচ চাষে আগ্রহ বাড়ছে বরিশালের চাষিদের কেরানীগঞ্জে ৪ বছরের শিশুকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ধ”র্ষ”ন চেষ্টার অভিযোগে যুবক আটক। মিরপুরে সিগারেট চোরাই কারবারি কামালের পক্ষে ছাত্রদল পরিচয়ে সজীবের হুমকিতে ভুক্তভোগীর থানায় সাধারণ ডায়েরি রক্তে রাঙা সীমান্তে লাগাতার হত্যাকাণ্ড ও জোরপূর্বক ‘পুশ-ইনে নীরব বাংলাদেশ বাংলা টিভির সামাদুল হককে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ ভুয়া আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট, এনআইডি জালিয়াতি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছে বাবুল জনরায়ের জয়: ঘাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের প্রশাসনিক ক্ষমতা পুনর্বহাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান, এমপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মানবাধিকার সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর গুম ও খুনের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যবৃন্দ। গ্যাসের সংকট দ্রুত নিরসনে সরকারের নানা উদ্যোগ পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার টঙ্গীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে সেচ পাম্প স্থাপন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রমে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী শাহীন আহমদ রিজভী হোয়াইক্যংয়ের কথিত ঠিকাদার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী যুবদল নেতা ফরিদ ও মৎস্যজীবি দল নেতা আজম ইয়াবাসহ আটক খুলনায় দৌলতপুর ওজোপাডিকো মসজিদে ফজরের নামাজের সময় গুলি, আহত ১ মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা মাঠে ও অফিসে রুকুনোজ্জামান রোকন: জনসেবায় মসিক প্রশাসকের নতুন দৃষ্টান্ত ফুটবল বিশ্বকাপের জমকালো আসরত নিজের পোশাকে লাল-সবুজ পতাকা আর বাংলার বাঘ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ছবি দেখাইয়া বিশ্বদরবারো বাংলাদেশ রিপ্রেজেন্ট করলো এবং বিশ্ববাসীর নজড় কাড়লো সিলেটি ফুয়া সঞ্জয় ।
জরুরী নোটিশ :
জরুরী নোটিশ এবং সতর্কবার্তা ""গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক  মিডিয়া ভুক্ত পত্রিকা দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশে কর্তব্যরত সকল সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।  কিছু কুচুক্তি মহল বিভিন্ন গণমাধ্যমের আইডি কার্ড নকল করে বিভিন্ন প্রকার অপরাধে জড়াচ্ছে কিছুদিন পর পর পত্রিকার এসব খবরে আমরা বিভ্রান্ত। এরকম বেশ কয়েকজন অপরাধী দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার আইডি কার্ড নকল করেছে এমন প্রমাণিত হওয়াতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে  তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। এবং সংবাদ প্রকাশ করে এসব অপরাধীদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই বলে আমরা ঘোষণা দিয়েছি।  সেই সাথে আমরা আমাদের প্রদত্ত বিগত দিনের সকল আইডি কার্ড পরিবর্তন করে স্ক্যানিং কোড সিস্টেম করে নতুন আঙ্গিকে আইডি কার্ড তৈরি করেছি।  দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশে কর্তব্যরত সকল সাংবাদিকদের কে সম্মানের সাথে জানাচ্ছি আপনারা  আপনাদের পুরনো আইডি কার্ড পত্রিকা অফিসে জমা দিয়ে সেই সাথে নতুন করে ভোটার আইডি কার্ড এবং  আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদের সত্যায়িত ফটোকপি সহ জমা দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন আইডি কার্ড সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশ দেয়া গেল। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশ যারা অমান্য করবে তাদেরকে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃত বলে গণ্য করবেন। আপনাদের জ্ঞাতার্থে আরও জানাচ্ছি যে  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশক্রমে সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মান নির্ণয় সহ সাংবাদিকদের ডাটাবেজ তৈরি করছেন, মাননীয় সাবেক বিচারপতি প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ইতিমধ্যে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। পুনরায় আপনার ভোটার আইডি কার্ড এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা অভিজ্ঞতার সনদ সকল কিছু সত্যায়িত করে নতুনভাবে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার   কর্তৃপক্ষকে জমা দিয়ে পুরনো কার্ডটি ফেরত দিয়ে নতুন আইডি কার্ড নেওয়ার জন্য নির্দেশ রইল।  আদেশক্রমে --আব্দুল্লাহ আল মামুন--প্রকাশক ও সম্পাদক--দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ ।

করিডোরের নামে প্রাণের বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চায় পরাশক্তিরা

রিপোর্টার নাম / ২৫৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন

(করিডোরের সম্ভাবনা যতই লোভনীয় হোক না কেন, এটি ঝুঁকিমুক্ত নয়। সতর্কতার সাথে ব্যবস্থাপনা না হলে, এটি ঢাকাকে মিয়ানমারের সিরিয়ার মতো গৃহযুদ্ধ এবং আঞ্চলিক মহাশক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়ে ফেলতে পারে। করিডোরের সাফল্য নির্ভর করবে মানবিক আদর্শের সাথে কৌশলগত বাস্তববাদের ভারসাম্য, করিডোরের স্বচ্ছতা এবং কার্যকর আঞ্চলিক সমন্বয়ের উপর)

শের ই গুলঃ
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডোর সমর্থনের বাংলাদেশের উদ্যোগ একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ, যা দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকট সমাধান এবং আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধির স্পষ্ট সম্ভাবনা রাখে। কিন্তু সতর্কতার সাথে ব্যবস্থাপনা না হলে, এটি ঢাকাকে মিয়ানমারের সিরিয়ার মতো গৃহযুদ্ধ এবং আঞ্চলিক মহাশক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়ে ফেলতে পারে। করিডোরের সাফল্য নির্ভর করবে মানবিক আদর্শের সাথে কৌশলগত বাস্তববাদের ভারসাম্য, করিডোরের স্বচ্ছতা এবং কার্যকর আঞ্চলিক সমন্বয়ের উপর। ঢাকা যখন এই সূক্ষ্ম ভারসাম্যের পথে হাঁটছে, বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে: এই করিডোর কি মানবিক কূটনীতির বিজয় হবে, নাকি একটি ব্যয়বহুল ভূ-রাজনৈতিক জুয়া?
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকট রাখাইন রাজ্যকে একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে নিয়ে গেছে, যেখানে মিয়ানমার জান্তা এবং শক্তিশালী জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) চাপে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে উভয় পক্ষের ব্যর্থতা আসিয়ান-সমর্থিত কূটনীতিকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অকার্যকর করেছে। বাংলাদেশের জন্য, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শরণার্থী আশ্রয় দেওয়ার ব্যয় বছরে ১০০ কোটি ডলারের বেশি, এছাড়াও পরিবেশের ক্ষতি এবং আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-এর মতো গোষ্ঠীর কার্যক্রমের কারণে নিরাপত্তা হুমকি বৃদ্ধি পেয়েছে।চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতিসংঘের উদ্যোগে মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ রাখাইন রাজ্যে একটি মানবিক করিডোর স্থাপনের পরিকল্পনাকে অনুমোদন দিয়েছে, যেখানে মানবিক সংকট ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। পশ্চিমা সাহায্য বাংলাদেশের সমুদ্র ও স্থলপথে রাখাইনে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই করিডোর কক্সবাজারের শিবিরে বসবাসরত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ সরবরাহের চেষ্টা করে, যারা গত এক দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং নিরাপত্তার উপর বোঝা চাপিয়েছে। মানবিক জরুরি প্রয়োজন হিসেবে উপস্থাপিত হলেও, করিডোরের সময়, ভূ-রাজনীতি এবং কৌশলগত দিক নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্য এবং এর সাথে জড়িত ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডরুসংক্রান্ত আলোচনার বিষয়েও কথা বলেন। এুসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডর বিষয়ে সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকার থেকেই আসতে হবে এবং তা বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই হতে হবে। এখানে জাতীয় স্বার্থ দেখতে হবে। যা করার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই করতে হবে। যা-ই করা হোক না কেন, পলিটিক্যাল কনসেনসাসের (রাজনৈতিক ঐকমত্য) মাধ্যমে সেটা হতে হবে।

জাতিসংঘের প্রস্তাবিত মানবিক করিডোরটি রাখাইনে সরাসরি ত্রাণ সরবরাহ এবং সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের ভিত্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে গঠিত। কিন্তু ১৩ মার্চ জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং ২৪ মার্চ মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোয়েল বি. ভোয়েলের উচ্চপর্যায়ের সফরের পর এপ্রিল ২০২৫-এ এটির অনুমোদনের সময়টি বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের ইঙ্গিত দেয় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের আশ্বাস যে করিডোরটি “অস্ত্র নয়, পণ্য” পরিবহন করবে, গুজব বন্ধ করার পরিবর্তে উল্টো জ্বালানি দিয়েছে, কারণ পূর্বে গণমাধ্যমে অস্ত্র স্থানান্তরের কোনো প্রতিবেদন ছিল না।
এই করিডোর বাংলাদেশের জন্য বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচন করে। রাখাইনের অস্থিতিশীলতার কারণে টেকনাফের স্থলবন্দর বন্ধ হওয়ায় বছরে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা (২ কোটি ডলার) ক্ষতি হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করিডোর সীমান্ত বাণিজ্য পুনরুদ্ধার করতে পারে, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক লজিস্টিক হাবে পরিণত করতে পারে এবং কিয়াউকফিউ বন্দরের মতো পরিকল্পনায় চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে। কূটনৈতিকভাবে, জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা মিত্রদের সমন্বয়ে একটি জোট গঠন বাংলাদেশের বৈশ্বিক মর্যাদা বাড়াতে পারে, বিশেষত যদি এটি মানবিক প্রয়োজন হিসেবে উপস্থাপিত হয়, মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ নয়। রাখাইনে স্বার্থ রাখা চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ভারত বা আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রগুলির প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কমাতে পারে।
তবে, করিডোরের সম্ভাবনা যতই লোভনীয় হোক না কেন, এটি ঝুঁকিমুক্ত নয়। মিয়ানমারের জান্তা, যদিও দুর্বল, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার কেবল প্রতিবাদপত্র পাঠানোর সংযত প্রতিক্রিয়া করিডোর নিয়ে তার দৃঢ় অবস্থানের বিপরীতে প্রশ্ন তুলেছে। আরাকান আর্মি, রাখাইনের বেশিরভাগ অংশে আধিপত্যকারী একটি অরাষ্ট্রীয় সত্তা, আরেকটি চ্যালেঞ্জ। এ বাণিজ্যের সুযোগকে স্বাগত জানালেও, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাথে যেকোনো সম্পর্কের ধারণা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে এবং বাংলাদেশের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কঠিন করে তুলতে পারে।
জাতিসংঘ জোর দিয়েছে যে করিডোরটির জন্য ঢাকা এবং নেপিডোর সম্মতি প্রয়োজন, যা জান্তার রাখাইনের উপর দুর্বল নিয়ন্ত্রণের কারণে জটিল। দেশীয় বিশ্লেষকরা, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দল রয়েছে, রাখাইনকে “হারানো ভূমি” হিসেবে চিত্রিত করে জাতীয়তাবাদী মনোভাব জাগিয়ে তুলছে, যা চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের মতো সীমান্ত অঞ্চলগুলোকে অস্থিতিশীল করতে পারে। এছাড়াও, ২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশে স্টারলিঙ্ক ইন্টারনেটের বাণিজ্যিক উদ্বোধন, যার উচ্চ মূল্য (৪০,০০০ু৭০,০০০ টাকা) এবং ইউক্রেনে ড্রোন যুদ্ধে এর পূর্ববর্তী ব্যবহার নিয়ে জল্পনা সৃষ্টি করেছে। করিডোরের সাথে স্টারলিঙ্কের কোনো সংযোগের প্রমাণ না থাকলেও, জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের সাথে এর একযোগে উদ্বোধন জনগণের সন্দেহ বাড়িয়েছে।
রাখাইনের কৌশলগত অস্পষ্টতা নতুন নয়। ২০১৯ সালে মার্কিন প্রতিনিধি ব্র্যাড শেরম্যান কুখ্যাতভাবে রাখাইনকে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আঞ্চলিক শক্তিগুলো এখন তাদের খেলা জোরদার করছে। ভারত চীনা প্রভাব রোধে আরাকান আর্মির সাথে জোট গঠন করছে, আর বেইজিংয়ের রাখাইনে কিয়াউকফিউ বন্দরসহ উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশ যদি তার দাবি জোরদার করতে ব্যর্থ হয় তবে বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত প্রভাব হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়াও, বাংলাদেশের বন্দরে পাকিস্তানি জাহাজ থেকে “পরিদর্শনমুক্ত” আমদানির অভিযোগ অস্ত্র স্থানান্তরের গুজব ছড়িয়েছে, যদিও এর সমর্থনে কোনো কংক্রিট প্রমাণ নেই।
মানবিক করিডোরে বাংলাদেশের জন্য সুযোগ এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি উভয়ই রয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক স্বার্থে বাংলাদেশ কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে, যদি ভূ-রাজনীতি এবং বিদেশী চাপের জন্য করিডোরটি সুরক্ষিত করতে হয়, তবে ঝুঁকি কমিয়ে সম্ভাবনা ও সুবিধা সর্বাধিক করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ঝুঁকি কমিয়ে সুবিধা সর্বাধিক করার জন্য বাংলাদেশ একটি বাস্তববাদী এবং উদার মনোভাব গ্রহণ করতে পারে:
১. জাতিসংঘের সাথে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি: করিডোরটিকে জাতিসংঘ-নেতৃত্বাধীন মানবিক প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করে এবং উন্মুক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করে অপপ্রচারের অভিযোগ প্রশমিত করা যেতে পারে। ২. আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা: চীন, ভারত এবং আসিয়ানের সাথে আলোচনার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া প্রতিরোধ করা এবং রাখাইনের পুনর্গঠনে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব অর্জন করা সম্ভব। ৩. *সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার*: আরসার মতো সীমান্তবর্তী অপারেশনের বিরুদ্ধে কার্যকর নিরাপত্তা নীতি গ্রহণ জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। ৪. স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা: করিডোরের কার্যক্রম, যেমন কার্গো স্ক্যানিং, প্রকাশ্যে প্রকাশ করা স্থানীয় অবিশ্বাস দূর করতে এবং ভুল তথ্য রোধ করতে পারে। ৫. অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সদ্ব্যবহার: বাণিজ্য পুনর্বাসন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্য বাংলাদেশকে বঙ্গোপসাগরে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত করতে পারে।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *