উপকূলীয় কয়রার গা ঘেঁষেই রয়েছে অপরূপ এক মহিমার দৃশ্য সুন্দরবন সেখানে পা রাখলেই বোঝা যায়, কি এক অদৃশ্য সৌন্দর্য কিছু সৌন্দর্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে না। খালের জলে হেলান দেওয়া গরান-কেওড়া-সুন্দরী গাছ, ভাটার সময় কাদায় আঁকা বাঘের পায়ের ছাপ, আর দূরে চিত্রা হরিণের লাফ—সব মিলিয়ে মনে হয় আল্লাহর তোলা রঙের ক্যানভাস দেখছি।
দিনের বেলাতেও বনের ভেতর এক ধরনের নীরবতা কাজ করে। নৌকা থামিয়ে কান পাতলে শোনা যায় শুধু পাখির ডাক আর পাতার মর্মর। এই নীরবতাই পর্যটকদের মন ভরিয়ে দেয়। অনেকে বলেন, “শহরের হট্টগোল ভুলে গেছি এখানে এসে।”
সকালের কুয়াশা ভেদ করে যখন রোদ গাছের ফাঁক গলে নদীতে পড়ে, পুরো খালটা সোনালি হয়ে যায়। বিকেলে জোয়ারের পানি গাছের গোড়া ছুঁয়ে দেয়। প্রকৃতি যেন নিজেই প্রতিদিন নতুন করে সাজে। বন বিভাগের কর্মীরাও বলেন, ২০ বছর চাকরি করেও এই দৃশ্যে মুগ্ধতা কমেনি।
বাঘ শিকার করে হরিণ, হরিণ খায় গাছের পাতা, গাছ ধরে রাখে মাটি—এই চেইন দেখলে বোঝা যায় সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা কত নিখুঁত। একটা গাছ কাটা পড়লে পুরো উপকূল ঝুঁকিতে পড়ে, আবার একটা বাঘ মরলে হরিণ বেড়ে গাছ শেষ করে দেয়।
করমজল ঘাটের এক পর্যটক কালাম মিয়া বললেন, “ঢাকার জ্যাম, অফিসের চাপ—সব ভুলে যাই। মনে হয় আল্লাহ নিজ হাতে এত যত্নে বনটা বানাইছে, শুধু আমাদের দেখার জন্য।”