গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরীকে ঘিরে ৩৫ e-GP টেন্ডারে প্রশ্ন
গণপূর্ত অধিদপ্তরের বগুড়া বিভাগে OTM-LTM, অনুমোদন ও কার্যাদেশ নিয়ে অনুসন্ধান
ধারাবাহিক অনুসন্ধান | দ্বিতীয় পর্ব
শাপলা আক্তার
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরীকে ঘিরে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধানে এবার সামনে এসেছে ৩৫টি e-GP টেন্ডার আইডি। এসব টেন্ডারের সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন সিদ্ধান্ত, অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
প্রথম পর্বে উল্লিখিত ৩৫টি টেন্ডার আইডির মধ্যে কয়েকটির প্রকাশ্য তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে e-GP Tender ID 1111781 বগুড়ার ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের প্রধান ভবনের বৈদ্যুতিক মেরামতকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রকাশ্য রেকর্ড অনুযায়ী এটি বগুড়া গণপূর্ত বিভাগের অধীনে OTM পদ্ধতিতে আহ্বান করা হয়।
তবে কোনো টেন্ডার OTM পদ্ধতিতে হয়েছে—এ তথ্য একাই অনিয়ম প্রমাণ করে না। প্রশ্ন হলো, সংশ্লিষ্ট কাজের ক্ষেত্রে ওই পদ্ধতি গ্রহণের প্রশাসনিক ও আইনগত ভিত্তি কী ছিল এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কার কী ভূমিকা ছিল।
৩৫ টেন্ডারের নথি এখন অনুসন্ধানের কেন্দ্রে
প্রতিটি e-GP আইডির ক্ষেত্রে যাচাই করা প্রয়োজন—
– প্রকল্প ও কাজের নাম;
– প্রাক্কলিত ব্যয়;
– অর্থের উৎস;
– দরপত্র পদ্ধতি;
– অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান;
– দরপত্র মূল্যায়ন;
– কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান;
– চুক্তিমূল্য;
– টেকনিক্যাল স্যাংশন;
– ভেরিয়েশন;
– বিল ও অর্থ পরিশোধ।
এই তথ্যগুলো পাশাপাশি বিশ্লেষণ করলেই অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
OTM-LTM নিয়ে প্রশ্ন
আবু নাসের চৌধুরীর বগুড়া গণপূর্তে দায়িত্ব পালনকাল নিয়ে প্রকাশিত অভিযোগের একটি অংশ LTM-এর পরিবর্তে OTM ব্যবহারের বিষয়কে কেন্দ্র করে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু কাজের ক্ষেত্রে OTM ব্যবহারের ফলে নির্দিষ্ট ঠিকাদাররা সুবিধা পেয়েছেন। তবে এই দাবি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কাজের নথি ও প্রযোজ্য ক্রয়বিধি পরীক্ষা করা জরুরি।
কার্যাদেশ কারা পেয়েছেন?
৩৫টি টেন্ডারের ক্ষেত্রে একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একাধিকবার কার্যাদেশ পেয়েছে কি না—এটিও অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
একই প্রতিষ্ঠান বারবার কাজ পেলেই অনিয়ম প্রমাণিত হয় না। তবে সীমিত প্রতিযোগিতা, দরপত্রে অংশগ্রহণের ধরন এবং কার্যাদেশ পাওয়ার ধারাবাহিকতা থাকলে বিষয়টি আরও গভীরভাবে যাচাই প্রয়োজন।
আবু নাসেরের বক্তব্য
আবু নাসের চৌধুরী তাঁর বিরুদ্ধে টেন্ডার-সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “আমি কোনো টেন্ডারের সঙ্গে যুক্ত নই।”
তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে সরকারি e-GP রেকর্ড ও দাপ্তরিক নথির সামঞ্জস্য আছে কি না—তা যাচাই করাই অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপ।
চলবে…
পরবর্তী পর্বে:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের বগুড়া ও ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২-এর সংশ্লিষ্ট টেন্ডারে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান, কার্যাদেশ, চুক্তিমূল্য, ভেরিয়েশন এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ার নথিভিত্তিক বিশ্লেষণ।