গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডস্থ ,কেওয়া পশ্চিম খন্ড (মইষ্ঠা পাড়া) নামক গ্রামের এফ ব্লক নিবন্ধিত পৌরসভার নির্মিত ইটের সলিং একটি রাস্তা দিয়ে মহল্লার প্রায় অন্তত ২০ টি বাড়ির স্থানীয় ও বহিরাগত (ভাড়াটিয়া) মিলিয়ে আনুমানিক দুই শতাধিক মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত। যার ফলে ছোট এই রাস্তাটি স্হানীয় বাসিন্দাদের অবাধ ও স্বাচ্ছন্দে চলাফেরার অন্যতম প্রধান রাস্তা।
একমাত্র এই একটি রাস্তা ব্যবহার করে প্রতিদিন এলাকার স্থানীয় বহু কর্মজীবী, চাকুরীজী, স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ-বয়জেষ্ঠ্য লোকজন চলাফেরা করত নির্বিঘ্নে।
অত্র এলাকাটি শিল্পাঞ্চল হওয়ার সুবাদে মহল্লায় অনেক লোকজন ভাড়া বাসায় থাকেন এখানে যার ফলে প্রতিদিনই এই রাস্তা ব্যবহার করে অনেক মানুষ যাতায়াত করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে, বর্তমান সময়ে উদ্বেগজনক ঘটনা হল মহল্লার সকলের যাতায়াতের একমাত্র ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি স্হানীয় এক পরিবারের লোকজন তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ-সিদ্ধি হাসিলের জন্য অপব্যবহার করে লোকজনের চলাচলের অনুপযোগী করে তুলেছে। যার ফলে মহল্লাটিতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এবং স্হানীয় বাসিন্দা সহ বহিরাগত লোকজনকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং এতে করে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিত্যনৈমিত্তিক ব্যবহার্য জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র এই রাস্তাটিতে একই এলাকার আঃ সামাদ (৫০) নামক ব্যাক্তি জেনে বুঝেই দীর্ঘ দিন ধরে শৌচাগারের দূষিত পানি রাস্তায় ফেলে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণ করে চলেছেন নিয়মিত । উল্লেখ্য বিষয় হল রাস্তাটির সম্মুখভাগেই অবস্থান অভিযুক্ত আব্দুস সামাদের বাড়ি। স্হানীয় বাসিন্দা এই আব্দুস সামাদের একাধিক বানিজ্যিক বাড়ি (ভাড়া বাড়ি) সেখানে অন্তত ২৫-৩৫ জন লোকজনের বসতি রয়েছে। তাদের ব্যবহৃত শৌচাগার, গোসলখানার বর্জ ও দূষিত পানি নিস্কাশনের যে সেপটিক ট্যাংক রয়েছে তা তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। তাই তিনি, বাড়ির শৌচাগারের ও গোসলখানা সহ নিত্যদিনের ব্যবহার্য বর্জ ও দূষিত পানি,মল-মূত্র ইত্যাদি সেফটিক ট্যাংক থেকে পাইপ দিয়ে সরাসরি রাস্তার মধ্যে নিঃসরণ করেন প্রতিনিয়ত। এর ফলে সৃষ্ট হয় জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ এবং কাঁদা। ফলশ্রুতিতে রাস্তায় চলাচলরত মানুষ দুর্গন্ধ অতিষ্ঠ হয়ে যায়, বৃদ্ধ ও শিশুরা মাঝে মধ্যেই পিচ্ছিল রাস্তায় পরে গিয়ে আহত হন। এই অস্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ফলে যে মল-মূত্র যুক্ত দূষিত বিষাক্ত পানি নির্গত হয় রাস্তার উপর এর প্রভাবে শিশুদের বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক ব্যাধি যেমন চর্মরোগ, ডায়রিয়া,কলেরা,স্ক্যাবিস সহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখা যায় প্রায়ই।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, ঘটনাস্থলে যখন অতিরিক্ত দূষিত পানি বেশি পরিমাণে বেড়ে যায় তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি তার জমি সংলগ্ন অন্যজনের জমিতে প্রকাশ্যে এই দূষিত পানি ছেড়ে দেন এতে বাধা দিলে আক্রমণাত্মক কথাবার্তা বলে , পেশি শক্তির প্রকোপ প্রদর্শন করে বিশৃঙ্খলা, ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করেন। আর এ বিষয়ে এলাকাবাসী সকলে সহমত পোষণ করেন।
অবৈধ স্যানিটেশন ফলে রাস্তাটি বর্তমানে ব্যবহারের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে করে মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং স্হানীয় মানুষ এবং বিশেষ করে ছোট ছোট শিশুরা এই দূষিত পানির সংস্পর্শে বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে অসহনীয় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এমতাবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে এই মহল্লাবাসীর। উক্ত জনদুর্ভোগের বিষয়ে বাড়ির মালিক আব্দুস সামাদ কে এলাকাবাসীর সকলের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয় যেন তিনি তার ওই বাড়ির শৌচাগারের দূষিত পানি রাস্তায় না ফেলেন , জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ রোধের জন্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এলাকাবাসীর এই মহামারীস্বরূপ দুর্ভোগ এড়াতে বিকল্প স্যানিটেশন ব্যবস্থা গ্রহণ করে সমস্যার সমাধান করা হয়। কিন্তু তিনি যেন কোনভাবেই টনক নড়ছে না এর একমাত্র কারণ তিনি যে এক নাছোড়বান্দা! কারণ তার স্ব-ইচ্ছাকৃত এহেন অনৈতিক ও অমানবিক কাজে প্রকাশিত এই হীনমন্যতা যেন সকলের দুর্ভোগর শীর্ষে দম্ভতার উৎকর্ষ।
প্রায় ৩-৪ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে সামাদের এমন কর্মকাণ্ড চলমান রেখেছেন তিনি মহল্লার সকলের চরম দুর্ভোগের বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেও। বিভিন্ন ভাবে এলাকার সকলে তাকে রাস্তায় দূষিত পানি, বর্জ ইত্যাদি না ফেলার অনুরোধ জানিয়ে ক্লান্ত হয়ে এই অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গেছেন।
তবুও এলাকাবাসী সর্বদা তাকে নানান আকুতি মিনতি করেই চলেছেন যাতে করে এই দূষণ, দুর্ভোগের বিষয়ে তিনি একটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সকল মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও পরিবেশ দূষণ বন্ধ করা যায়।
কিন্তু এতকিছুর পরও অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হল, আব্দুস সামাদ সকলের দুর্ভোগের বিষয়টি অগ্রাহ্য করে, বরং তার সৃষ্ট জনদুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণের বিষয়ে কোন রকম চেষ্টা না করে এলাকার সচেতন লোকজন সহ সকল ভুক্তভোগীদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং হুমকিস্বরূপ আচরণ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যে , তিনি এভাবেই রাস্তায় শৌচাগারের দূষিত পানি ফেলবেন কারো ক্ষমতা থাকলে যেন তা বন্ধ করে এবং তার বাড়িটি রাস্তার সম্মুখভাগে হওয়ার কারণে রাস্তা একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে সকলকে জিম্মি করে আসছে।
কারো সমস্যায় যেন তার কোনকিছুই মনে করেন না তিনি। এই সমস্যা সমাধানের জন্য কারো কোন কথার গুরুত্ব তিনি না দেওয়ার কারণে এলাকাবাসী সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে মহল্লাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে উক্ত জনদুর্ভোগ নিরসনের জন্য প্রায় বছর খানেক আগে স্হানীয় প্রসাশন বরাবর লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রীপুর পৌর প্রসাশক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উক্ত ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা আসেন এবং আব্দুস সামাদ কে রাস্তায় দূষিত শৌচাগারের পানি ও বর্জ নিঃসরণ কঠোরভাবে নিষেধ করেন।
কিন্তু সামাদ তা মানতে অস্বীকৃতি জানান এবং স্হানীয় প্রসাশনের নির্দেশ অমান্য করে যথারীতি তিনি তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। কোন অবস্থাতেই যেন তাকে অমানবিক এহেন কাজ থেকে থামানো যাচ্ছেই না। যতই দিন যাচ্ছে আব্দুস সামাদ যেন প্রসাশনের নির্দেশ কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তার দুষ্টু চিন্তায় নিমত্তির ভাবকে প্রভাবিত করে যাচ্ছেন।
আর এরকম পরিস্থিতির কারণ হল , তার বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না নেয়ায় তিনি পেশি শক্তির ছাপ স্পষ্টত প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই এলাকাবাসী তার এমন অসদাচরণে যেন অসহায়ের ছায়াতলে একেবারে অসহনীয় ভাবে নিরবে একাকার। তাই এলাকাবাসী সকলেই আব্দুস সামাদের এমন বর্বর ও অমানবিক অত্যাচার থেকে পরিত্রাণের আশায় প্রহর গুনছেন সর্বদা। এখন বর্তমানে এলাকাবাসী সকলের অন্তরের আর্তনাদ যেন এই যে , উক্ত মারাত্মক এই জনদুর্ভোগ থেকে যেন যে কোন উপায়ে স্থায়ী কোন সমাধান গ্রহণে এক বিভিশিকাময় পরিস্থিতি থেকে চির মুক্তির আকুন্ঠ আর্তনাদ।
এলাকাবাসী তার এমন অত্যাচারের বোঝা আর বইতে না পেরে , এলাকার সচেতন নাগরিক এবং সকল বাসিন্দাদের নিয়ে ঐক্যমত পোষণ করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাশাপাশি শ্রীপুর পৌর ৮নং ওয়ার্ডের একজন সাবেক জনপ্রতিনিধিকে বিষয়টি অবগত এবং তার সম্মতিক্রমে আবারো প্রতিবাদের পথে অগ্রসরের সংকল্প করেছেন।
তাই এলাকাবাসী সকলে এই জনদুর্ভোগ কে চিরতরে বিদায় করে পরিপাটি একটি মহল্লা গড়ে তোলার আশায়, একটি সুন্দর সাবলীল পরিবেশে নির্বিঘ্নে বসবাস, সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশাকে লালন করে সকল স্থায়ী বাসিন্দাদের সর্ব সম্মতিক্রমে ০৯/০৮/২৬ইং তারিখে উক্ত জনদুর্ভোগের সকল বৃত্তান্ত বর্ণনা উল্লেখ করে শ্রীপুর পৌর প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যাতে করে স্হানীয় প্রশাসন মহল্লাবাসীদের কে উক্ত জনদুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য খুব শীঘ্রই কোন একটি স্হায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে স্বাভাবিক জীবন যাপন সহজতর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্র কর্তৃক নাগরিকের প্রাপ্য সহযোগিতা, আইন , বিচার ব্যবস্থা স্থাপন সহ সর্বোপরি সকল বিষয়ে হস্তক্ষেপ গ্রহনের আলোকে সর্বদা প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের নিশ্চয়তা পান
পরিশেষে ,এলাকাবাসী সকলের একটিই উদ্দেশ্য একটিই স্বতঃস্ফূর্ত আশা আকাঙ্ক্ষা, একটিই অভিমত যে কারো সাথে সংঘাত নয়, পশুত্ববোধ নয়, কুচিন্তার বহিঃপ্রকাশ নয়, হিংসা বিদ্বেষ নয় সকলেই চান মানবিকতা, সচেতনতা,সহনশীলতা, পারস্পারিক সম্পর্কের এক অটুট বন্ধনে আবদ্ধ এক ইতিবাচক দৃষ্টান্তমূলক সমাজ ব্যবস্থা যেখানে একে অপরের সহযোগিতা, সকলের মাঝে এক অভূতপূর্ব ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট রেখে যেন তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শান্তিপূর্ণ এলাকাটি আবারো আগের মত রুপ ফিরে পায়, রাস্তার সরকারি স্বীকৃতি এবং সকলে একসাথে স্বাচ্ছন্দে ,সুন্দরভাবে সমাজে বসবাস। সর্বদা সকলের নির্বিঘ্নে স্বাভাবিক চলাচল। যাতে সমাজ ব্যবস্থার অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় ঐক্যমতের ভিত্তিতে সামাজিকীকরণের ধারাকে অব্যাহত রেখে নতুন প্রজন্মের কাছে একটি সুন্দর পরিবেশ ও আধুনিক এলাকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়।