
খুলনা জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ হুরে জান্নাত বলেছেন, প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের কষ্ট ও দুর্ভোগ লাঘবে সরকারি কর্মকর্তাদের মানবিক মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষ সরকারি সেবার প্রতি আরও আস্থাশীল হবে। জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি দপ্তরসমূহকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে ভূমি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবামূলক কার্যক্রমে কোনো ধরনের অবহেলা, দুর্নীতি বা বিলম্ব বরদাশত করা হবে না।
তিনি বলেন সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সৎ ও নীতিবান হতে হবে। জনগণের কল্যাণে কাজ করাই একজন সরকারি কর্মকর্তার মূল দায়িত্ব। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে যায় তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি সুশৃঙ্খল, দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। একইসঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ ও জলবায়ু সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান তিনি। প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, সমাজের অবহেলিত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সরকারি সহায়তা কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব হবে।
তিনি ২১মে (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রূপসা উপজেলা সরকারি দপ্তরসমূহের প্রধানগণের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এরপর তিনি দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবধি রূপসা থানা পরিদর্শন, উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রণালয়ের অধীনে আশ্রয়ন প্রকল্পের উপকারভোগীদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে সহায়ক উপকরণ বিতরণ করেন। পরিশেষে জেলা প্রশাসক পুটিমারি এলাকায় খাল খনন পরিদর্শন করেন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ সানজিদা রিকতা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, সহকারী কমিশনার জাহীন আবরার হিমেল, রূপসা থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাজেদুল হক কাউসার, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জ্যোতি কনা দাস, প্রকৌশলী শোভন সরকার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ রাসেল, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএ আনোয়ারুল কুদ্দুস, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক ইকবাল আজিজ, শেখ বোরহানউদ্দিন, হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা মদন কুমার দাস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের ডাঃ সুবীর দেবনাথ ও ডাঃ বিজন বিশ্বাস, ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু, রূপসা রিপোর্টার্স ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফ.ম.আইয়ুব আলী প্রমুখ।