মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

আলহামদুলিল্লাহ। আজ সৌভাগ্য হলো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আল-কুরআন মুদ্রণ কেন্দ্র Nasyrul Quran পরিদর্শনের। মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী Putrajaya-এ অবস্থিত এই বিশাল কমপ্লেক্সটি বর্তমানে ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা ও কুরআনের দাওয়াতি কার্যক্রমে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মদিনায় অবস্থিত King Fahd Complex for the Printing of the Holy Quran-এর পর এটিই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কুরআন প্রিন্টিং সেন্টার। এখান থেকে প্রতি বছর প্রায় ১০ লক্ষ কপি পবিত্র আল-কুরআন মুদ্রণ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিতরণ করা হয়।
“নাসিরুল কুরআন” নামটি আরবি শব্দ থেকে নেওয়া, যার অর্থ “কুরআনের বিস্তার”। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য হলো— কুরআন মুদ্রণ, কুরআন শিক্ষার প্রসার, গবেষণা, ব্যাখ্যা ও বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ কার্যক্রম পরিচালনা করা।
মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় দাতব্য সংস্থা Yayasan Restu এই বিশাল প্রকল্পটি প্রতিষ্ঠা, নির্মাণ ও পরিচালনা করছে। মালয়েশিয়া সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় এবং ফেডারেল টেরিটরি ইসলামিক রিলিজিয়াস কাউন্সিলের সহযোগিতায় প্রায় ৬০ মিলিয়ন রিঙ্গিত ব্যয়ে এটি নির্মিত হয়। ২০১৫ সালের ১০ জুলাই এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম চালু করা হয়।
৫,৫১৪ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এই কমপ্লেক্সটিতে অত্যাধুনিক প্রিন্টিং প্ল্যান্টের পাশাপাশি রয়েছে কুরআন প্রদর্শনী গ্যালারি, ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি বিভাগ, গবেষণাকেন্দ্র, প্রশিক্ষণ কক্ষ এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ পরিদর্শন সুবিধা। বর্তমানে এটি মালয়েশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো— এখানে শুধু আরবি ভাষায় নয়, বরং বাংলা, ইংরেজি, উর্দু, ফার্সি, তামিল, হিন্দি, স্প্যানিশ, হিব্রুসহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় কুরআনের অনুবাদ ও প্রকাশনার কাজ করা হয়। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ নিজ নিজ ভাষায় পবিত্র কুরআনের বাণী জানতে ও বুঝতে পারছেন।
নিশ্চয়ই এমন একটি মহতী উদ্যোগ মুসলিম উম্মাহর জন্য গর্বের বিষয়। মহান আল্লাহ তাআলা এই প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং কুরআনের আলো বিশ্বব্যাপী আরও ছড়িয়ে দেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।