শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
ইসলামে এমন একটি গুনাহ আছে—যার ব্যাপারে আল্লাহ খুব কঠিন ভাষায় সতর্ক করেছেন
শের ই গুল :
তোমরা জিনাহ ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই তা এক অশ্লীল কাজ এবং খুবই নিকৃষ্ট পথ। (সূরা ইসরা ১৭:৩২)
খেয়াল করুন—আল্লাহ বলেননি শুধু করো না, বরং বলেছেন—“কাছেও যেও না
কেন এত কঠোর নিষেধ?
কারণ যিনা শুধু একটি কাজ না—এটা একটি ধ্বংসের শুরু। প্রথমে আসে দৃষ্টি, তারপর আসে চিন্তা, তারপর কথা, তারপর সম্পর্ক, শেষে গুনাহ। এভাবে ধীরে ধীরে মানুষ নিজেই নিজের পতনের দিকে এগিয়ে যায়।
যিনার ভেতরের ক্ষতি
যিনা মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়—
▪️ অন্তর ভরে যায় অপরাধবোধে
▪️ লজ্জা আর অস্থিরতা তৈরি হয়
▪️ আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যায়
ফলে—নামাজ ভারী লাগে। কুরআন পড়তে মন চায় না, দোয়ায় স্বাদ থাকে না
এই গুনাহের কারণে—
▪️ জীবনে বরকত কমে যায়
▪️ রিজিক সংকুচিত হতে থাকে
▪️ শান্তি হারিয়ে যায়
▪️ অজানা অস্থিরতা তৈরি হয়
সবকিছু থাকলেও—মনে হয় কিছু একটা নেই…
ধ্বং’সাত্মক গুনাহগুলোর একটি
রাসূল ﷺ যিনাকে সাতটি বড় ধ্বং’সাত্মক গুনাহর মধ্যে উল্লেখ করেছেন—যেগুলোর মধ্যে শিরক ও খুনও রয়েছে।
(সহিহ বুখারি ও মুসলিম) ভাবুন—যিনা কত বড় গুনাহ হলে সেই তালিকায় থাকে!
কিন্তু আশা এখানেই শেষ নয়…আল্লাহ কখনো বান্দাকে নিরাশ করেন না। তবে তারা ছাড়া, যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে—আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলোকে ভালো কাজে পরিবর্তন করে দেবেন।”
(সূরা ফুরকান ২৫:৭০)
আপনি যত বড় গুনাহই করে থাকুন—যদি সত্যিকারের তওবা করেন, যদি ফিরে আসেন আল্লাহর কাছে
তাহলে—আপনার অতীত মাফ হয়ে যেতে পারে। এমনকি সেই গুনাহ নেক আমলেও পরিণত হতে পারে।
🕯️ শেষ কথা, আপনার অতীত আপনাকে শেষ করে দেয় না—আপনার সিদ্ধান্তই আপনার ভবিষ্যৎ তৈরি করে।
আজই সিদ্ধান্ত নিন—হারাম থেকে দূরে থাকবেন, নিজের চোখ, মন ও নফসকে হেফাজত করবেন,আল্লাহর পথে ফিরে আসবেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হারাম থেকে হেফাজত করুন,
আমাদের জীবনে বরকত ফিরিয়ে দিন, এবং আমাদের তওবা কবুল করুন। আমিন