
নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলা-এর খিদিরপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মনতলা গ্রামের ঈদগাহ সংলগ্ন এলাকায় টানা অতিবৃষ্টি ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ভেংগে পরছে পানের বরজ,হুমকির মুখে বসত ভিটা । জমে থাকা পানির তীব্র চাপ ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনের কারণে প্রায় তিন একর পানের বরজ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে । একই সঙ্গে এলাকার বহু বসতভিটা এখন চরম হুমকির মুখে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে এবারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে পানের বরজ, ফসলি জমি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নদীর পাড় ধসে পড়ায় অনেক বাড়িঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন পানচাষিরা। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা পানের বরজ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন দিশেহারা। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বরজ চাষীরা
বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. লিয়াকত আলী বলেন, “পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই গ্রামের মানুষ ক্ষতির শিকার হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও অনেক পানের বরজ, কৃষিজমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যাবে। তখন বহু পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়বে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ২ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন আকন্দ, মো. নুরুল ইসলাম বেপারী, আতাহার আলী, নয়ন মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী মনোহরদী উপজেলা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পশ্চিম মনতলা গ্রামের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা ব্রহ্মপুত্র নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে ভুক্তভোগী বরজ,চাষীদের একটাই দাবী দ্রুত সময়ে মধ্যে পানি নিষ্কাশনের জোর দাবি জানান।