
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা এলাকায় নীরবে গড়ে উঠেছে এক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ—“আরিফ অ্যাগ্রো ফার্মা হ্যাচারী”। গ্রামীণ পরিবেশে আধুনিক চিন্তাধারার এই খামার এখন স্থানীয়দের কাছে অনুপ্রেরণার নাম। তরুণদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে এ প্রতিষ্ঠান।
এই হ্যাচারীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক স্বপ্নবাজ তরুণের গল্প। তিনি মোঃ আলিফ হোসেন (আলিফ), তিস্তা ডিগ্রী কলেজ–এর এইচএসসি পড়ুয়া ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর দৃঢ় সংকল্প থেকেই তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথচলা। বয়সে তরুণ হলেও চিন্তায় পরিপক্ব—অলস সময়কে কাজে লাগিয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন উৎপাদনমুখী একটি উদ্যোগ।
হ্যাচারিটিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের মুরগি, হাঁস, চায়না মুরগি, কোয়েল পাখি, কবুতরসহ সব ধরনের বাচ্চা উৎপাদন ও সরবরাহ করা হয়। উন্নত জাতের দেশি-বিদেশি মুরগি ও কবুতর লালন-পালনে ইতোমধ্যে তিনি এলাকায় সুনাম অর্জন করেছেন। খামারের পরিচর্যা, স্বাস্থ্যবিধি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে ক্রেতাদের আস্থা দিন দিন বাড়ছে।
শুধু খামার পরিচালনাই নয়, উপজেলা পর্যায়ের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতেও দেশি-বিদেশি মুরগি ও কবুতর প্রদর্শন করে আলিফ কুড়িয়েছেন প্রশংসা। স্থানীয় কৃষি ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের নজর কেড়েছে তার উদ্যোগ ও সৃজনশীলতা। এতে করে তার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে।
আলিফ বলেন,
“আমি চাই পড়াশোনার পাশাপাশি এমন কিছু করতে, যাতে নিজের খরচ নিজেই চালাতে পারি এবং ভবিষ্যতে বড় উদ্যোক্তা হতে পারি। সময় নষ্ট না করে কাজের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তুলতে চাই।”
প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটর মোঃ শহীদার রহমান মনে করেন, তরুণদের এগিয়ে আসাই দেশের উন্নয়নের মূল শক্তি। তিনি বলেন,
“তরুণরা যদি উদ্যোগী হয়, তাহলে সমাজ বদলাতে সময় লাগবে না। আলিফের মতো শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে দেশ আত্মনির্ভরশীল হবে।”
স্থানীয়দের মতে, আলিফ শুধু একটি হ্যাচারী গড়ে তোলেননি; তিনি তরুণ সমাজের সামনে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—চাকরির পেছনে না ছুটেও পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে সফল হওয়া সম্ভব।
খালিশার এই তরুণ উদ্যোক্তার স্বপ্ন আরও বড়। ভবিষ্যতে আধুনিক ও বৃহৎ খামার গড়ে তুলে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চান তিনি।
অলস মস্তিষ্ক নয়—উদ্যম, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসই সফলতার চাবিকাঠি। খালিশার এই হ্যাচারী সেই বার্তাই দিচ্ছে নতুন প্রজন্মকে।
আমাদের প্রত্যাশা—আলিফ হোসেন যেন একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠেন এবং তার সাফল্যের গল্প আরও বহু তরুণকে স্বপ্ন দেখাতে অনুপ্রাণিত করে।