মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা ভুজপুর থানার নারায়ণহাটের নেপচুন চা বাগানে গড়লো নতুন ইতিহাস শ্রম, নিষ্ঠা ও মানসম্মত উৎপাদনে জাতীয় স্বীকৃতি।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নারায়ণহাট ইউপির ঐতিহ্যবাহী নেপচুন চা বাগান আবারও জাতীয় পর্যায়ে গৌরবের স্বাক্ষর রাখলো। বাগানটির চা শ্রমিক জেসমিন আক্তার টানা তৃতীয়বারের মতো দেশসেরা চা শ্রমিক নির্বাচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে নেপচুন চা বাগানও টানা চতুর্থবারের মতো দেশসেরা চা বাগানের মর্যাদা অর্জন করেছে।
বাংলাদেশের চা শিল্পে এটি শুধু একটি পুরস্কার নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং শ্রমিকদের নিবেদনের এক অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চা শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। সেখানে চা পাতা চয়নকারী হিসেবে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে আবারও সেরার মুকুট অর্জন করেন জেসমিন আক্তার। এর আগেও তিনি একাধিকবার জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
জেসমিন আক্তার প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চা বাগানে কাজ করছেন। অল্প বয়সে স্বামীর হাত ধরে ফটিকছড়ি উপজেলা ভুজপুর থানার নেপচুন চা বাগানে এসে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। ধৈর্য, অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন দেশের অন্যতম দক্ষ চা পাতা চয়নকারী শ্রমিক।
গত এক বছরে তিনি বিপুল পরিমাণ চা পাতা উত্তোলন করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, এক বছরে তিনি প্রায় ৩৪ হাজার ৯৩৭ কেজি চা পাতা উত্তোলন করেছিলেন, যা তাকে দেশসেরার আসনে পৌঁছে দেয়।
অন্যদিকে, নেপচুন চা বাগানও ধারাবাহিকভাবে মানসম্মত চা উৎপাদন, শ্রমিক কল্যাণ এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় সাফল্যের কারণে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করে আসছে। টানা চতুর্থবার দেশসেরা চা বাগান নির্বাচিত হওয়াকে চা শিল্পের জন্য বিরল অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের মতে, জেসমিন আক্তারের এই অর্জন শুধু নেপচুন চা বাগানের নয়, পুরো ফটিকছড়ি তথা চট্টগ্রামের জন্য গর্বের বিষয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে ঘিরে প্রশংসা ও অভিনন্দনের জোয়ার বইছে।
চা শ্রমিকের জীবনসংগ্রাম থেকে জাতীয় স্বীকৃতির মঞ্চে উঠে আসা জেসমিন আক্তারের গল্প এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার নাম। আর নেপচুন চা বাগানের এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করেছে—পরিশ্রম, দক্ষতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে দেশের চা শিল্পও বিশ্বমানে এগিয়ে যেতে পারে।