মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন

সোহাগ জোয়ারদার
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ছবি আমার ভালো লাগে না। মনটা বিষন্ন হয়ে যায়। আঁতকে উঠি, চলতে ফিরতে ঘুমোতে চোখের সামনে চলে আসে অসুস্থতার ছবি, তবুও নিশ্চিত বিশ্বাস রেখে চলি ,এইতো আরও সুস্থতার জন্য চিকিৎসা, তবুও মন মানে না ।
আমাদের দেশে ক্ষমতায় ছিল ,ক্ষমতায় যাবে এমন সম্ভাবনাময় বড় রাজনৈতিক দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য ভাবতেই ভাবনায় আসে, কোটি টাকার গাড়ি থেকে নেতা নামছেন, পিএস এপিএস সিকিউরিটি সঙ্গে আছে। পিলে চমকে দেওয়ার মতো শক্তিমান যুবক ঘিরে আছে। প্রভাব প্রতিপত্তি ,চেহারায় অহংকারের ছাপ ,বুকে আছে দখলদারিত্বের বাসনা। সাধারণ মানুষ কাছে তো ভিড়তেই পারবেন না। নেতা আসছে ,নেতা যাচ্ছে ,কদাচিৎ করমর্দন করে সন্তুষ্টি। আহা ! কত বড় নেতা ।
যিনি আজ অসুস্থ তিনি নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। উপরিউক্ত লেখাগুলোর ঠিক উল্টো একজন মানুষ । যাকে আমরা চিনি, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন শ্রমিক নেতা, বরেণ্য রাজনীতিবিদ। মুক্তিযুদ্ধপূর্ব সময়ে সাংবাদিকতা এবং শিক্ষকতা করেছেন। সৃজনশীল প্রজ্ঞার অধিকারী। সফেদ পাজামা পাঞ্জাবি পরিহিত সহজ সরল জীবন যাপনের অধিকারী। সাধারণের অসাধারণ। মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, বাড়তি আভিজাত্য যোগ রয়েছে। জ্ঞানের দীপ্তি চোখে মুখে, ক্ষুর ধার দৃষ্টি। জীবন সংগ্রাম লড়াইয়ে বিজয়ী। জেল-জুলুম নির্যাতনের মধ্যেও স্বাভাবিক জীবন মেনে নিয়েছেন ,তার মধ্যেই খোঁজেন রসবোধ। পরিবার ,আত্মীয়-স্বজন, পাড়া- পড়শী ,পরিচিতি জনের কাছে দায়িত্বশীলতায় অনন্য হয়ে উঠেছেন।
আমাদের বিপদ -আপদে, আস্থা ভরসার জায়গা। অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা শিখেছি তার কাছ থেকে পারিবারিক মূল্যবোধ, কিভাবে বড়দের শ্রদ্ধা আর ছোটদের স্নেহ করতে হয়, রাজনীতির মত ও
পথের অমিল থাকলেও মনান্তর হয় না।
এ বয়সেও একজন কর্মবীর , পরিশীলিত মানুষ। রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সমসাময়িক বিষয়ে চমৎকার ড্রাফট করতে পারেন। গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় কূটনৈতিক মহলে অবলীলায় যিনি আলোচনা করতে পারেন আবার পড়শির জ্বরের খবর ও নেন। রোগে-শোকে পাশে এসে দাঁড়ান। বাহুল্যতা নেই আছে যথার্থতা। বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের কাছে যেমন আস্থা অর্জন করেছেন ,তেমনি সিভিল সোসাইটি এমনকি প্রগতিশীল মহলে সমাদৃত।
আমি বিএনপি করি না ।সি,পি,বি করি। গত বছর আমার দুর্যোগের মধ্য দিয়ে কেটেছে। ওপেন হার্ট সার্জারির শেষে জ্ঞান ফেরার পর দেখি, উনি দরজা থেকে হাত নাড়ছেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেছেন অপারেশন থিয়েটারের বাইরে। প্রয়াত মামি বারবার খোঁজ নিচ্ছেন। অসংখ্য গুনগ্রাহী ,বন্ধু, গ্রাম শহরের মানুষ, আত্মীয়স্বজন উদ্বিগ্ন ছিলেন। এর মধ্যে তিনি আছেন সাহস দিচ্ছেন। আজ তার অসুস্থতায় অনেকে রোজা রেখেছেন, নামাজ আদায় করছেন সুস্থতার জন্য।ক্ষমতার পারিপার্শ্বিকতায় নয়, শ্রদ্ধায় ভালবাসায়। আকাশে মেঘ কেটে যাবে শরতের সূর্যোদয়ে ,আলোকিত হবে বিশ্বজগত। মানুষের দোয়ায় শতবর্ষি হউন। আপনি ভাল থাকলে আমরাও ভালো থাকি।