মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন

আব্দুল্লাহ আল মামুন :
লক্ষীপুরের রায়পুরে পশ্চিম চরপাতা গাজিনগর সংলগ্ন বংশালের হাসমত উল্ল্যাহ চকিদার বাড়ির এক সুদ ব্যবসায়ী মহিলার অতিষ্ঠে বেশ কয়েকটি পরিবারসহ অসংখ্য মানুষ দিশেহারা , অভিযুক্ত ঐ নারীর ভয়ে ঘর ছাড়া হয়েছেন অনেকে বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ।
সম্প্রতি অভিযোগে জানা যায়, ৩নং ওয়ার্ডের ৫,নং চরপাতা ইউনিয়নের গাজিনগর বংশালের হাসমত উল্ল্যা চকিদার বাড়ির মো: রাজ্জাকের স্ত্রী সালেহা বেগম (৪২) দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের দারিদ্র্যতা ও সরলতার সুযোগ নিয়ে চড়া এবং চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের ব্যবসা করে আসছে।
সরজমিনে গিয়ে তথ্যের পাওয়া যায়, এলাকার দরিদ্র পরিবার গুলোকে টার্গেট করে খালি স্ট্যাম্পে সিগনেচার নিয়ে এবং ব্যাংকের চেক, ছবি, এনএইডি কার্ডে ফটোকপি নিয়ে উচ্চ মূল্যে সুদে টাকা দেন অভিযুক্ত সালেহহা বেগম ,কোন কারণে তার নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে সুদের টাকা পরিশোধ না করলে তা চক্রবৃদ্ধিহার জরিমানা স্বরূপ সুদের টাকার ডাবল হারে জোরপূর্বক টাকা আদায় করেন। যদি কেউ টাকা দিতে ব্যর্থ বা অসম্মতি জানায় তাহলে তার উপর নেমে আসে অমানিক নির্যাতন হুমকি ধামকি। সুদ ব্যবসায়ী সালেহা বেগমের এমন কর্মকাণ্ডে ইতি মধ্যে এলাকার ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বেশ কয়েকটি পরিবার বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী রুহুল আমিন (৭০)জানান, এলাকা জুড়ে সালেহা বেগমের এমনও কর্মকাণ্ডে আমরা সবাই সবসময় আতঙ্কে থাকি, সময় মত তার সুদের টাকা পরিশোধ করতে পারি না বলে সে আমাদের সাথে অমানবিক আচরণ করে।
অভিযোগে নাসিমা আক্তার ( ৩২ )জানান , আমি সালেহা বেগমের নিকট হতে ৯ লক্ষ টাকা নিয়েছি ,এই ৯ লাখ টাকার এক প্রতি এক লক্ষ টাকায় আমাকে মাসে সাত হাজার টাকা করে সুদ দিতে হয় প্রতি মাসে আমি এই টাকাটা দিতে যদি এক দুই দিন দেরি করি তবে সে আমার কাছ হতে সাত হাজারের ডাবল হিসেবে ১৪ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে জোর পূর্বক আদায় করে থাকে , এভাবে আমরা তার সুদের টাকা দিতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।
অপর এক ভুক্তভোগী রোজিনা (৩১)জানান , আমি সালেহা বেগমের নিকট হতে ৫ লক্ষ টাকা সুদে নিয়েছিলাম সেই টাকার ৩৫ হাজার টাকা প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। তার সুদের টাকা একদিন দুদিন লেট হলে আমাদের নিকট হতে ডাবল টাকা নেয় এতে করে তার জুলুমের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মনোয়ার হোসেন (৭১),আলমগীর (৬৫).মফিজ (৭৫),অহিদুল নেসা (৬০),রোজিনা (৩১), নেপুর বেগম(৫০), তসলিম (৬২)সহ আরও অনেকে গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, সালেহা বেগম আমাদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আমাদের জিম্মি করে রেখেছে তার সুদের টাকার জন্য গ্রাম ছেড়ে অনেকে পালিয়ে গিয়েছে। এ বিষয়ে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত কোন পদক্ষেপ নিতে গেলে আমাদের মামলা হামলার ভয় দেখায় তার জন্য আমরা আজ পর্যন্ত কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি।
অপর এক ভুক্তভোগী রাবেয়া (৩০) জানান, সে নিজেকে কোম্পানি , ব্যাংক দাবি করে থাকে, ৩শত টাকার স্ট্যাম্প ৬ হাজার টাকা নিয়ে থাকে। সময়মত তার সুদের টাকা দিতে পারিনা বলে দিন রাতে আমাদের উপরে অশ্লীল ও অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে থাকে এবং আমাদের সকলের বাড়িতে এসে হামলা চালায়। তার সুদের টাকা দিতে দেরি হওয়াতে সুদের জরিমান হিসেবে ডাবল টাকা জরিমানা নেয়।
এমন কর্মকাণ্ড তার বিরুদ্ধে কোন সংবাদকর্মী নিউজ করলে তাকে মামলা দেওয়ার হুমকি দেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সালেহা বেগমের মুঠোফোনে কল করে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে সে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে অসম্মতি জানান।