মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

মিনহাজুল কবীর ভূঁইয়া, সিলেট :
বৃহস্পতিবার সকালে আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে জড়ো হন। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অবস্থান, সড়ক দখল করে বিক্ষোভ প্রদর্শন, সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের কররার চেষ্টা করে।
দুপুরে পারমিটের দাবিতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মিছিল বের করে তারা। ‘সিলেট ব্যাটারী চালিত রিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’ ব্যানারে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে চৌহাট্টা পয়েন্টে বাঁশ ফেলে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করেন। যদিও পুলিশি উপস্থিতিতে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়নি, তবে চালকদের স্লোগানে পুরো এলাকা কম্পিত হয়।
মিছিল শেষে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দিকে রওনা হন। পথে পথে তারা ‘পারমিট চাই’, ‘রিকশা চালাতে দাও’, ‘গরিবের বাচতে দাও
আমরা কোন করণা চাই না ’এমন নানা স্লোগানে উত্তাল করে তোলেন নগরীর রাজপথ। মিছিল শেষে চালকরা বন্দরবাজার পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে সমবেত হন এবং সেখান থেকেও একই দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেন,প্রায় ৫০০ আটো রিস্কা চালক এই মিছিলে অংশ নেয় বলে জানায় সুমন নামের একজন প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা।
এখন দিকে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিকশাচালকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে শেষ করে সেখানেই দাবির পক্ষে স্মারকলিপি প্রদান করেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে ছিল অতিরিক্ত পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে
আন্দোলনের এক পর্যায়ে শতাধিক রিকশা চালকরা সিটি করপোরেশনের প্রধান ফটকের গেইট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালান। এসময় তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন নগর ভবনের দিকে।
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পৌনে ৪টার দিকে সরেজমিনে সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘুরে আন্দোলনকারীদের দেখা পাওয়া যায় নি।
এর আগে, গত তিনদিন ধরে সিলেট নগরীতে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে চালানো বিশেষ অভিযানে শতাধিক যানবাহন আটক ও মামলা করা হয়েছে। বুধবার অভিযানের তৃতীয় দিনে ৬৯টি যানবাহন আটক করা হয়, যার মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি—মোট ৪৪টি।
এছাড়াও ৩১টি যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক করা যানবাহনের মধ্যে সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, পিকআপ, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়িও ছিল।
অভিযানের অংশ হিসেবে নগরীর শামীমাবাদ এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ১০টি গ্যারেজের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ১৪৫ ফুট বৈদ্যুতিক তার, ১৮০টি চার্জিং পয়েন্ট ও ১০টি অবৈধ মিটার জব্দ করা হয়েছে।
তবে রিকশা চালকদের দাবি, তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচতে চান। পারমিট না দিয়ে রিকশা আটক ও মামলা দিয়ে তাদের পথে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।তাদের দাবি না মানা হয়ে সামনের দিনে কোটা আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন মালিক শ্রমিক নেতারা।তবে নগরীতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।নগরীর অনেক পথচারীদের বলতে শুনা যার যে অটো রিক্সা থাকলে নগরীর জন্য ভালো হয়,দ্রুত এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাওয়া যায়, তারা সবাই মনে করে অটো রিক্সার পারমিট দিলে সরকারের রাজস্ব আয় হবে পাশাপাশি নগরের মানুষেরা অটো রিস্কার সেবা পাবে।