মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

সোহরাব হোসেন :
রাজধানী ঢাকার তুরাগ থানাধীন কামারপাড়া হানিফ আলী মোড় খাদেমুল কোরআন মহিলা মাদরাসার পরিচালক, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক কে এম মামুনকে অপহরণের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বৃহত্তর উত্তরা উলামা পরিষদ ও তার পরিবার।
গত ২২ সেপ্টেম্বর সোমবার ভোরে আনুমানিক সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক কে এম মামুন। সোমবার ভোরে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটি হচ্ছে, ০১৯৪৮২২৯৮২৭। এই ঘটনায় পরিবারের সবাই এবং বৃহত্তর উত্তরা উলামা পরিষদ, সহযোদ্ধা এবং সংগঠনটির নেতাকর্মীরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে।
মামুনের স্ত্রীর মাধ্যমে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ইং রবিবার রাতে একটি অপরিচিত মোবাইল নাম্বার থেকে কে এম মামুনের নাম্বারে ফোন আসে। ফোনে তাকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়। এই বিষয় নিয়ে পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এরপর সোমবার ভোর থেকে নিখোঁজ হোন মামুন। মামুনের সন্ধানে তৎপরতা শুরু করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
গত ২২ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে তুরাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মামুনের স্ত্রী খাদিজা বেগম। জিডি নম্বর ১২৩১, তাং- ২২/০৯/২০২৫ ইং। কে এম মামুন একজন সংগ্রামী কর্মী ছিলেন। তিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নয়-এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত অপহরণ বলে সবার সন্দেহ। আমরা এর দ্রুত তদন্ত ও মামুনকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত চাই।
বক্তারা বলেন, আমরা দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, জিডি করার পরও এখন পর্যন্ত পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মামুনের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন ধীরগতি আমাদের হতাশ করেছে। আমরা মনে করি, মামুনের নিরাপত্তা এবং তাকে উদ্ধারে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।” এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কে এম মামুনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে তার সন্ধানে বিভিন্ন ছাত্র ও মানবাধিকার সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। আমরা অত্যন্ত উদ্ধেগের সাথে জানাচ্ছি, যদি মামুনকে অপহরণ করা হয়ে থাকে, তাহলে এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত। আমরা দ্রুত তাকে খুঁজে বের করার জোর দাবি জানাচ্ছি এবং এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উল্লেখ্য, কে এম মামুন দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় সংগঠক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। অল্প দিনেই রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা ইস্যুতে তার সাহসী ভূমিকার কারণে তিনি সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেন।