মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

এস এম রাকিবুল ইসলাম :
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণকে কেন্দ্র করে একের পর এক বিতর্কিত খবর সামনে আসছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সর্বাধিক আলোচিত হয়েছে দুটি ঘটনা—
টয়লেট পরিচালনা প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ যাত্রা
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন প্রতিবেদনে জানানো হয়, টয়লেট পরিচালনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে তিনজন কর্মকর্তা বিদেশ যাচ্ছেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের ভেতরে টয়লেট ব্যবস্থাপনা শেখানো সম্ভব না হলে বিদেশে গিয়ে এর কী বিশেষতা শেখা সম্ভব?
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই খবর ভাইরাল হয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করছেন।
খিচুড়ি রান্না শেখাতে এক হাজার কর্মকর্তার বিদেশ সফর
এর আগে একই ধরনের আরেকটি বিতর্কিত ঘটনার খবর উঠে আসে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য খিচুড়ি রান্নার প্রকল্পের অংশ হিসেবে এক হাজার কর্মকর্তাকে বিদেশ ভ্রমণে পাঠানো হয়। সরকারি ব্যয়ে এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল “খিচুড়ি রান্না শেখা”।
এ ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তোলেন, দেশের হোটেল-রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন খিচুড়ি রান্না হচ্ছে, সেখানে অভিজ্ঞ রাঁধুনিদের মাধ্যমেই যদি প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তাহলে বিদেশ ভ্রমণের প্রয়োজন কী?
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
অনেকেই এটিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বলে আখ্যায়িত করেছেন।
কেউ কেউ এটিকে “বিদেশ ভ্রমণের নামে ভ্রমণবিলাস” বলে সমালোচনা করেছেন।
অনেকে আবার ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “আগামীতে হয়তো চা বানানো শেখার জন্যও কর্মকর্তারা বিদেশ যাবেন।”
সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ ধরনের বিষয় নিয়ে বিদেশ সফর সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে না। বিশেষ করে যখন দেশের করদাতার টাকায় এসব আয়োজন হয়, তখন এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
টয়লেট ব্যবস্থাপনা কিংবা খিচুড়ি রান্নার মতো সাধারণ বিষয় শেখাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিদেশ সফর করানো হলে সেটি কেবল ব্যঙ্গ-বিদ্রূপকেই আমন্ত্রণ জানাবে। সরকার যদি সত্যিই প্রশিক্ষণকে কার্যকর করতে চায়, তবে দেশীয় দক্ষ জনবল ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানোই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত সমাধান হতে পারে।