মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

মোঃ শফিকুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রেমিকাকে নিয়ে ঘুরতে গিয়ে ফেরার পথে ধর্ষণের অভিযোগ ঐ কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের কাওরাইদ রেলগেইট এলাকায়, মেলা থেকে ফেরার পথে মুদি দোকানের ভিতরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর মামা আলামিন হোসেন।
এ ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীর মামা আল আমিন হোসেন বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলেন ১/ রায়হান (২২), পিতা মোঃ সুলতান মিয়া, সাং বেলদিয়া, কাওরাইদ ২/ সোহেল (৩৫) পিতা মৃত শুক্কুর আলী, সাং নিগুয়ারী, পাগলা, ময়মনসিংহ, ৩/ মোছাঃ নুরুন্নাহার (৪৫) স্বামী, সুলতান ৪/ মোঃ সুলতান (৫০), পিতা অজ্ঞাত, সাং কাওরাইদ, শ্রীপুর,গাজীপুর সহ অজ্ঞাত ২/৩ জন।
ভুক্তভোগীর মামা আল আমিন হোসেন জানান, দীর্ঘ ১২ বছর পূর্বে আমার বোন মোছাঃ তাছলিমা ভারসাম্যহীন অবস্থায় হারিয়ে যাই। তারপর থেকেই আমার বোনের মেয়ে আমার ভাগ্নিকে আমরা লালন পালন করে আসছি, আমার ভাগ্নি বর্তমানে কাওরাইদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অষ্টম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে। অনুমান গত চার মাস পূর্বে ২ নং বিবাদী সোহেলের সহযোগিতায় ১ নং বিবাদী রায়হানের সঙ্গে পরিচয় হয় আমার ভাগ্নির, সে থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১ নং বিবাদী রায়হান বিভিন্ন সময় আমার ভাগ্নিকে বিয়ের প্রলোভন দেখায়।
গত ১৬ই জুন আমার ভাগ্নি পাইথল ইউনিয়নের গয়েশপুর মেলায় বিকেল ৫ টার দিকে ঘুরতে যাই। মেলা থেকে বাড়িতে আসার সময় রায়হানের সঙ্গে দেখা হয় এবং কাওরাইদ রেলগেইট এলাকায় ২ নং বিবাদী সোহেলের ব্যবসায়িক মুদি দোকানের ভিতরে ১ নং বিবাদী রায়হান আমার ভাগ্নিকে নিয়ে যাই, এবং সেখানে দোকানে প্রবেশ করার পরপরই সোহেল বাহির থেকে দোকানের শাটার লাগিয়ে দেই এবং রায়হান আমার ভাগ্নির ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জামা কাপড় খুলে ধর্ষণ করে ।
এই ঘটনার পর আমার ভাগ্নি রায়হানকে বিয়ের কথা বললে সে আমার ভাগ্নিকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায় এবং এই ঘটনা কাউকে না জানাতে বলে।
১৭ই জুন বিকাল পাঁচটার দিকে আমার ভাগ্নিকে ১ নং বিবাদী রায়হান সহ তার পরিবারের লোকজন তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়, বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরপরই রায়হান তার বাবা সুলতান তার মা নুরুন্নাহার এবং সোহেল ভাগ্নিকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে, খবর পেয়ে আমরা আমার ভাগ্নিকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি।
ধর্ষণের ঘটনার পরপরই ওই দোকানটি বন্ধ করে রাখে সোহেল, এবং তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে রাখায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত রায়হান সহ অন্যান্য আসামিরা ঘটনার পর পরই পলাতক রয়েছে।