মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

মোঃ শফিকুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
আমাদের জাতীয় ফল হলো কাঁঠাল,আর গাজীপুর কে বলা হয় কাঁঠালের রাজধানী। গাজীপুরের মধ্যে শ্রীপুরের জৈনা বাজার হলো সব চেয়ে বড় কাঁঠালের বাজার। এ জেলায় ধানের পর প্রধান অর্থকরী ফসলের নাম কাঁঠাল। স্বাদ, ঘ্রাণ আর আকারে এ জেলার কাঁঠালের খ্যাতি রয়েছে সারাদেশে।এই কাঁঠাল বিক্রির হাট জমে উঠেছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্রীপুর জৈনা বাজারে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন পাইকাররা এখানে কাঁঠাল কিনতে আসেন।
গাজীপুরের শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর, কালীগঞ্জের মাটির গুণে কাঁঠালের ফলন ও স্বাদ বেশি। প্রতিবছর এই অঞ্চলে গড়ে ৮০ হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদন হয়। বাগান মালিক, পাইকার ও খুচড়া বিক্রেতারা বলছেন, কাঁঠালের দাম পড়ে যাওয়ায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, কাঁঠাল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবস্থা না থাকায় বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া সরকার বিদেশে কাঁঠালের বাজার সৃষ্টি করতে না পারায় সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে আশানুরূপ ফল আসছে না।
সরেজমিন দেখা গেছে, জৈনা বাজারের পশ্চিম পাশে বিশাল জায়গাজুড়ে কাঁঠালের পাইকারি বাজার বসেছে। বাজারে বড় বড় আড়তদারের কাছ থেকে পাইকারি দরে কাঁঠাল কিনে সেগুলো ট্রাকে তুলছেন ক্রেতারা। অন্য দিকে সড়কের পাশে শত শত ভ্যানগাড়িতে কাঁঠাল ভর্তি করে বিক্রির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন ছোট ব্যবসায়ীরা। একেকটি ভ্যানগাড়িতে মাঝারি আকারের ২০ থেকে ৫০টি কাঁঠাল। বড় পাইকাররা ভ্যানগাড়িতে থাকা কাঁঠালগুলোর আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করে দর কষাকষি করছেন। এ মৌসুমে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে পানির দরে। ১৫ কেজির উপরে বড় সাইজের একটি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০টাকায়। আর মাঝারি সাইজের কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫-২৫ টাকায়। আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় এলাকার অনেকে কাঁঠাল বাড়িতে গরু-ছাগলের খাবার হিসাবে খাওয়াচ্ছেন।
জৈনা বাজারের ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক বলেল, বলেন, ১৯৮৫ সাল থেকে এখানে আড়তদারি করি। নোয়াখালী, চিটাগাং, ফেনী, চাঁদপুর, সিলেট, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে কাঁঠালের জন্য পাইকাররা আসেন। কম দামে ভালো মানের কাঁঠাল পাওয়া যায় এই ঐতিহ্যবাহী হাটে।
আবদার গ্রামের বাগান মালিক জহিরুল ইসলাম বলেন, কাঁঠাল গাছের খুব একটা যত্ন করি না। তবু এবার আমার বাগানের ৪৯ থেকে ৫০টি গাছে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। গত ১৫ দিনে ছোট-বড় ৫০০-৬০০ কাঁচা কাঁঠাল বিক্রি করেছি। এরকম ২০০টি মাঝারি ও ছোট্ট আকারের প্রতি পিস কাঁঠাল ২৫ টাকায় বিক্রি করেছি। বড় আকারের কাঁঠালগুলো প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কাঁঠালগুলো দ্রুত পেঁকে পচে যাওয়ার ভয়ে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।
জৈনা বাজারের আড়ত দার সোহেল রানা বলেন, সিলেটে এবারের বন্যার কারণে কাঁঠাল বেচাকেনাও কম। উপজেলায় সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা থাকলে বাগান মালিকরা ন্যায্য দাম পেতেন এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই লাভবান হতেন।
স্হানীয় আড়তদার মোফাজ্জল সরকার বলেন, গত ২ বছরের তুলনায় এবার কাঁঠালের বেচা- কিনা ভালো জমে উঠেছে।এতে করে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা ও খুব খুশি।
নোয়াখালী থেকে আসা ইদ্রিস আলী বলেন, জৈনা বাজারের কাঁঠাল খুবই ভালো মানের। অনেক সুস্বাদু তাই, এর চাহিদা অনেক বেশি। তাই এখান থেকে কাঁঠাল নিয়ে আমরা বিক্রি করি।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদি সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, এ বছর প্রচুর কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এই বছরের ফলন ভালো হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে গাজীপুরের কাঁঠাল বিদেশেও পাঠানো হচ্ছে।