মিরপুর হাউজিং এস্টেটের অফিস সহকারী আব্দুল বারেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অনিয়ম করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন তিনি। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুল বারেক বর্তমানে মিরপুর হাউজিং এস্টেটের সেকশন-২ কার্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, একটি প্যানেল পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা লেনদেনের ঘটনা ঘটলেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্যানেলটি জাল ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে আব্দুল বারেকের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। বরং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগকারীরা দাবি করেন, সাংবাদিকদের প্রভাবিত বা ‘ম্যানেজ’ করার জন্য আব্দুল বারেক বিভিন্ন ব্যক্তিকে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়েছেন। যদিও এই দাবির স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একজন অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও আব্দুল বারেকের নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।যেসব অবৈধ সম্পত্তি বাসানং১৮ রুপনগর আবাসিক এলাকা দোয়ারিপাড়া রয়েছে কোটি টাকার সম্পদ ১৯নংরোডে ৪৯নং-বাড়ির ভুয়া প্লান পাস করে নিয়েছে ৩৬ লক্ষ টাকা এসব সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে, তার উৎস খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাদের ভাষ্য, একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর পক্ষে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, আব্দুল বারেক নাকি বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, তিনি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অর্থ দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন এবং তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না। তবে এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, মিরপুর হাউজিং এস্টেটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হারুনুর রশিদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বারেকের বিষয় বারেকই বুঝবে, আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।” অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়ে আসছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে হারুনুর রশিদের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীরা অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে আব্দুল বারেকের আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং নামে-বেনামে থাকা সম্পত্তির উৎস তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগে জড়িত অন্যদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে আব্দুল বারেকের বক্তব্য পাওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি দৈনিক সকালের সময়কে বলেন, সাংবাদিকদের সাথে আমার কোন কথা নাই। যা পারেন লেখেন আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন সাংবাদিক আছেন।