মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন

ঈদের আনন্দকে স্মৃতির মেলায় রূপ দিলেন কয়রা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাশির খালধার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা। ঈদুল আজহার পরের দিন ২০২৬ সালের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী উৎসবের আমেজে অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৯টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। বিদ্যালয়ের গেট থেকে শুরু হয়ে কাশির খালধার বাজার প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রাটি আবার বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়। হাতে ব্যানার-ফেস্টুন, মুখে পুরনো দিনের গান নিয়ে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রায় অংশ নেন। দীর্ঘ ১০, ২০, বছর পর দেখা হওয়ায় অনেকের চোখেই ছিল আনন্দাশ্রু।
শোভাযাত্রা শেষে বিদ্যালয় মাঠে মিলনমেলায় বসেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। একে একে মঞ্চে উঠে তারা টিফিন ভাগাভাগি, বেঞ্চে বসা নিয়ে ঝগড়া, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আর প্রিয় শিক্ষকদের বকুনির গল্প শোনান। প্রাক্তন শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, “এই মাঠেই আমরা ফুটবল খেলতাম, আম গাছ থেকে আম পেড়ে ধরা পড়তাম। আজ সবাইকে একসাথে পেয়ে মনে হচ্ছে সময়টা আবার ফিরে পেয়েছি।”
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বর্তমান ও বিদায়ী শিক্ষকদের সম্মাননা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষিকা ও বিদায়ী শিক্ষক শিক্ষিকাদের ক্রেস্ট ও উত্তরীয় দিয়ে সম্মান জানানো হয়। শিক্ষকরাও প্রাক্তনদের উদ্দেশ্যে দোয়া করেন এবং বলেন, “তোমরা যেখানেই থাকো, মানুষের মতো মানুষ হও – এটাই আমাদের চাওয়া।”
দুপুরে সকলের জন্য গরুর মাংস, সাদা ভাত ও ডাউলের আয়োজন ছিল। খাওয়ার পর্ব শেষে র্যাফেল ড্র, পুরনো দিনের গানের আসর ও স্মৃতিচারণ পর্ব চলে বিকেল পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জানান, এই পুনর্মিলনী শুধু আনন্দের জন্য নয়। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মিলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্মৃতি, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতার মিলনমেলায় দিনশেষে সবাই আবার দেখা হওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিদায় নেন। অনেকের মতে, এমন আয়োজন প্রতি বছর হওয়া উচিত।