মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন

এ বি অপু :
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সন্ত্রাস ছড়াতে নতুন কৌশল নিয়েছে পাকিস্তান। কাশ্মীরের জম্মু সেক্টরে সম্প্রতি একাধিক টানেলের সন্ধান পেয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। এই টানেলগুলো পাকিস্তান থেকে ভারতে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
ভারতীয় বাহিনীর তদন্তে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চল বিশেষ করে জম্মু, সাম্বা ও কাঠুয়া জেলায় একাধিক টানেলের অস্তিত্ব মিলেছে। সব টানেলের উৎস পাকিস্তানে, এবং এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ, অস্ত্র চোরাচালান, এমনকি গোয়েন্দাগিরির জন্য। গত দুই দশকে ভারতের ভূখণ্ডে পাকিস্তান থেকে আসা অন্তত ২২টি টানেল শনাক্ত হয়েছে।
২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলা ও ২০১৬ সালের নাগরটা সেনাঘাঁটি হামলায় ব্যবহৃত টানেলগুলো এ ধরনের অনুপ্রবেশের দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু টানেল ছিল ৩০ মিটার গভীর এবং ৫০০ মিটার দীর্ঘ। কিছু টানেলে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থাও ছিল। এমনকি, কিছু টানেলে ‘মেইড ইন করাচি’ লেখা স্যান্ডব্যাগ পাওয়া গেছে, যা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ বহন করে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়, জম্মু অঞ্চল অপেক্ষাকৃত সমতল এবং ঢিলেঢালা মাটি থাকার কারণে এখানে টানেল খনন সহজ হলেও সেগুলো চিহ্নিত করা কঠিন। এজন্য প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন, গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার, ভূকম্পন শনাক্তকারী সেন্সর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন স্মার্ট ফেন্স।
সঙ্গে রয়েছে মানব গোয়েন্দা ও ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধ কৌশলও। সীমান্ত বরাবর খোঁড়া হচ্ছে অ্যান্টি-টানেল ট্রেঞ্চ, যা টানেল শনাক্তে সহায়তা করছে।
ভারত বলছে, পাকিস্তান এখনো সন্ত্রাস রপ্তানির পুরনো পথেই চলছে। এসব টানেল শুধু অনুপ্রবেশ নয়, বরং একটি সন্ত্রাসপ্রেমী রাষ্ট্রের মানসিকতার প্রতিফলন।