মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

বিএনপি’র অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কামাল,রতন,অসীম,
ওয়াসিম আকরাম,সোহাগ মাজহারুলের হাতে জিম্মি কেন্দুয়া
মাইনুল ইসলাম ইমন :
( ধর্ষণের তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকরা কেন্দুয়া গেলে ০৫ জন সাংবাদিককে একটি বদ্ধ ঘরে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখে বিএনপির নামধারী সন্ত্রাসীরা অবশেষে পুলিশের সহযোগিতায় নতুন জীবন ফিরে পায় সাংবাদিকরা, এই ঘটনার পরেও থানা জ্বালিয়ে দিতে পারে কিংবা পুলিশকে মেরে ফেলতে পারে এই ভয়ে মামলা নিচ্ছেনা পুলিশ)
৫ ই আগস্ট আওমি ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর কিছু সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করে বিএনপির নাম দিয়ে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে অন্যতম অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বিএনপির নামধারী ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সোহাগ মিয়া, অস্ত্রধারী অন্যতম সন্ত্রাসী সান্দিকোনা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক মাজহারুল ইসলাম, অস্ত্রধারী সান্দিকোনা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ওয়াসিম আকরাম খান, অস্ত্রদারি মূল হোতা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি সাবেক মেম্বার রতন মিয়া, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বিএনপি নেতা অসীম, গন্ডা ইউনিয়নের সন্ত্রাসী যুবদল নেতা কামাল, প্রকৃতপক্ষে এদের সাথে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র কোন রাজনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও দেশের রাজনৈতিক পদ পরিবর্তনের সাথে সাথে এরা হাইব্রিড নেতার মত বিএনপির আগে পিছে নিজেদের নামকে জুড়ে দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ ধরার চেষ্টা করছে। কেন্দুয়া থেকে শুরু করে নেত্রকোনা এমন কোন জায়গা নেই তাদের চাঁদাবাজির বিস্তৃতি লাভ করেনি। এই এলাকার একমাত্র মাদক সরবরাহকারী এই চক্রটি নেত্রকোনা সহ কেন্দুয়া আশেপাশের এলাকায় যুবসমাজকে নষ্ট করে দিয়েছে। এলাকার বেশ কিছু স্থানীয় লোকের সাথে কথা বললে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারা জানায় আমাদের কথা যদি জানে তাহলে আমাদেরকে মেরে ফেলবে, কামাল ,অসীম ,রতন মিয়া ওয়াসিম আকরাম ,সোহাগ, মাজহারুল এদেরকে ধরলে এদের কাছে থানা লুটের অস্ত্র পাওয়া যাবে। সুদূর ঢাকা থেকে মানবতার দিকে তাকিয়ে একটি ধর্ষিতা মেয়েকে নিয়ে ভুক্তভোগীকে সাথে নিয়ে কেন্দুয়া যায় কিছু সাংবাদিক তাদের উদ্দেশ্য ধর্ষককে ফাইন্ড আউট করা এবং তার তথ্য সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সারা দেশকে জানানো । দুর্বৃত্তরা তাদের উপস্থিতি জানতে পেরে কৌশলে তাদেরকে অবৈধভাবে বানানো বিএনপির ওয়ার্ড অফিস ক্লাবে দীর্ঘ ১২ ঘন্টা আটকে রাখে, এবং বেদম মারধর করে সাংবাদিকদের কাছে রাখা তাদের টাকা পয়সা মোবাইল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সবকিছু নিয়ে যায়। অনেক ঘটনার পর এক সময় পুলিশ এসে আধমরা অবস্থায় সাংবাদিকদেরকে কোনোভাবে উদ্ধার করেন। উত্তরের সময় একজন পুলিশ কনস্টেবল সাংবাদিকদের জানায় আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তোমাদেরকে উদ্ধার করলাম এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা থানাও জ্বালিয়ে দিতে পারে আমাদেরকে মেরে ফেলতে পারে। এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানায় যোগাযোগ করলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন অফিসার ইনচার্জ।
সহকারী পুলিশ সুপার (কেন্দুয়া–আটপাড়া সার্কেল) গোলাম মোস্তফার নির্দেশে কেন্দুয়া থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন—
ঢাকায় কর্মরত দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার মাইনুল ইসলাম ইমন,
বিডি ক্রাইমস–এর গিয়াস উদ্দিন রানা,
বিবিসি নিউজ ২৪-এর নিজস্ব সংবাদদাতা তারেক রহমান ফয়সাল,
বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার কেন্দুয়া উপজেলা প্রতিনিধি কোহিনূর আলম
এবং জাতীয় দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার কেন্দুয়া প্রতিনিধি সালমান আহমেদ ।
(প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট চারজন সাংবাদিক প্রত্যক্ষভাবে ভুক্তভোগী বলে জানিয়েছেন।)
পরিকল্পিতভাবে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর সমর্থক একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁদের আটক করে। গাজীপুর সদরে দায়ের হওয়া একটি নারী নির্যাতন মামলার তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তাঁরা কেন্দুয়ায় গেলে তাঁদের বীরমোহন গ্রামের একটি বিএনপি ওয়ার্ড কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রায় ১২ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।
এ সময় সাংবাদিকদের মারধর করা হয়, ক্যামেরা ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং এক সাংবাদিকের গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি জোরপূর্বক কিছু কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—
কেন্দুয়া থানাকে অবহিত করার পরও পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের কীভাবে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখা সম্ভব হলো?
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের একত্রিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্তরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ বা প্রমাণ দেখাতে পারেননি। এরপর পুলিশ সাংবাদিকদের থানায় নিয়ে যায় এবং সার্কেল পুলিশের নির্দেশনায় মুচলেকা দিয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিকের জিম্মায় তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।
অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে রয়েছেন—
সান্দিকোনা ও গন্ডা ইউনিয়নের কয়েকজন স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতা,
যার মধ্যে আছেন যুবদল নেতা মো. ওয়াসিম,
গন্ডা ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন,
মো. স্বপন, মো. রনি, মোহাম্মদ আলমগীর,
অভিযোগকারী আনাসের ভাই মো. একরাম ও চাচাতো ভাই সুমন,
গন্ডা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কল্যাণ,
এছাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও সাবেক ইউপি সদস্য রতন মিয়া ওসমান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা প্রকাশ্যে বলেন—
“১৭ বছর ধৈর্য ধরেছি, এখন সাংবাদিকদের সময় নেই। পুলিশ আমাদের এলাকায় এলে আমরা বেঁধে রাখি। ম্যাজিস্ট্রেটকেও পিটিয়েছি। অনুমতি ছাড়া এখানে সাংবাদিক তো দূরের কথা, তথ্য সংগ্রহও করা যাবে না। আমরা উপরের নির্দেশে কাজ করি।”
সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর দেশজুড়ে সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন,
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জরুরি ব্যবস্থা না নেওয়া হলে নির্বাচনী সহিংসতা বাড়তে পারে এবং সুস্থ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাঁদের মতে, নেত্রকোনা জেলার আসনগুলো বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাংবাদিক বন্দি মানেই নির্বাচন বন্দি—এ অবস্থায় অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রস্তুতি
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা থেকে গাজীপুর হয়ে কেন্দুয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক মানববন্ধন কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের পরিকল্পনাও রয়েছে। স্থানীয় প্রেসক্লাব থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে অনুসন্ধানী সাংবাদিক মহল ঘটনাটি নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্মিলিতভাবে সাংবাদিক সমাজ এ বিষয়ে বিএনপি’র সদ্য চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে একটি লিখিত অভিযোগ দিবে বলে জানা যায়। তিনি অভিযোগ পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয় তাদেরকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেন কিনা বিষয়টি নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। এসব সন্ত্রাসীরা কারা তাদের ইতিবৃত্ত নিয়ে আগামী পর্বে থাকবে চাঞ্চল্যকর তথ্য তাদের বিরুদ্ধে কয়টি মামলা আছে কয়টি ওয়ারেন্ট আছে সাজাপ্রাপ্ত আসামি কিনা এসব নিয়ে থাকবে বিস্তারিত ফিরিস্তি চোখ রাখুন দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ সংবাদের পিছনের খবর দেখতে আমাদের সাথে থাকুন