পদ্মা রেল সেতুর দুর্নীতির
তদন্ত থামাতে সক্রিয়
ডিজি আফজাল হোসেন
দুদক নীরব, অডিটের ‘গুরুতর অনিয়ম’ মীমাংসার চেষ্টায় রেল বিভাগের।
স্টাফ রিপোর্টার
প্রথম পর্ব…..(১)
পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্পে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে নতুন করে সক্রিয় হয়েছেন রেল বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন—এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে।
সরকারের অডিট বিভাগের প্রতিবেদনে ‘মীমাংসাযোগ্য নয়’ হিসেবে চিহ্নিত ৯,৬৯৩ কোটি টাকার গুরুতর অনিয়ম থাকলেও তদন্তের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বরং অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির নামে এসব অনিয়মকে বৈধ দেখানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ।
অডিট আপত্তি “ম্যানেজমেন্ট”-এর অভিযোগ
রেল বিভাগের ভেতরের নথি ও সূত্র জানায়, ডিজি আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি অনানুষ্ঠানিক টিম কাজ করছে, যাদের মূল দায়িত্ব—
গুরুতর অনিয়মকে ‘কারিগরি ত্রুটি’ হিসেবে উপস্থাপন
ঠিকাদার ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ব্যাখ্যাকে অগ্রাধিকার
অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি কমিটিতে প্রভাব বিস্তার
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“যেসব অনিয়ম অডিট রিপোর্টে মীমাংসাযোগ্য নয় বলা হয়েছে, সেগুলোও কাগজে-কলমে ঠিক দেখানোর চেষ্টা চলছে।”
দুদকের তদন্ত কেন থেমে গেল?
দুদক সূত্র জানায়, গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশের পর কমিশন প্রাথমিকভাবে নথি সংগ্রহ শুরু করেছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেই তৎপরতা থেমে যায়।
সূত্রের দাবি—
ডিজি আফজাল হোসেন সরাসরি দুদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন
অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে তদন্ত স্থগিত রাখতে অনুরোধ করা হয়
উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের নাম “রেফারেন্স” হিসেবে উল্লেখ করা হয়
এর পর থেকেই দুদকের পক্ষ থেকে আর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।
প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে সিদ্ধান্ত, এখন নিজেই বিচারক?
প্রশ্ন উঠেছে—
যে ব্যক্তি প্রকল্প পরিচালক হিসেবে থাকাকালে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত, তিনি কীভাবে এখন সেই একই প্রকল্পের অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া তদারকি করেন?
অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী—
অতিরিক্ত বিল অনুমোদন
কাজ কম করে বেশি দেখানো
বিশেষায়িত প্রকল্প দেখিয়ে বাড়তি ব্যয়
এসব সিদ্ধান্তের বড় অংশই হয়েছে আফজাল হোসেনের সময়কালে। অথচ এখন তিনিই ডিজি হিসেবে পুরো প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে।
সরকারের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক
অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতে পদ্মা রেল সেতু দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের শাস্তির বদলে—
পদোন্নতি
প্রশাসনিক সুরক্ষা
তদন্তে অনীহা
সব মিলিয়ে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে জনমনে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
ফলোআপ উপসংহার
পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এখন আর কেবল অতীতের ঘটনা নয়—এটি বর্তমান প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও সদিচ্ছার একটি বড় পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষার কেন্দ্রে রয়েছেন রেল বিভাগের ডিজি মো. আফজাল হোসেন।
পরবর্তী পর্বে থাকছে রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেনের নারী কেলেঙ্কারি নিয়ে চাঞ্চল্যক তথ্য……..!!