মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার :
পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালালেও এখনো বিভিন্ন জায়গায় দাপটে তার সাঙ্গু-পাঙ্গুরা । দীর্ঘ ১৫ বছর নানা ভাবে মানুষকে অত্যাচার করার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় আওয়ামী লীগ সরকার। তবে এখনও কিছু কিছু জায়গা চলছে তাদের প্রভাবে। এমনই এক চিত্রে দেখা পাওয়া গেলে নরসিংদীর মনোহরদীতে। স্বৈরশাসক শেখ হাসনিার মন্ত্রী পরিষদের সাবেক শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুনের মেয়ে হুমাইরা মাহমুদ হেমাগত বছর অবৈধ ভাবে মনোহরদী প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থা ও মনোহরদী প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স বিদ্যালয়টি দখল করে নেয়।
অভিযোগ আছে, সাবেকমন্ত্রীর মেয়ে প্রতিষ্ঠানটি দখল করার পিছনে বড় ভূমিকা পালন করেছেন নরসিংদী জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক মাহমুদুল হাসান তাপস। এক কমিটি বহাল থাকা অবস্থায় সাবেক শিল্পমন্ত্রীর মন্ত্রীর আস্থাভাজন হওয়ার জন্য অনৈতিক ভাবে মন্ত্রীর মেয়েকে সভাপতি করে নতুন কমিটির অনুমোদন দেন মাহমুদুল হাসান তাপস । অবৈধ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, মো. ইকবাল হোসেন, তাইজউদ্দিন ফরাজী, এছাড়াও জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। এখনো স্বৈরাচারের কমিটি বহাল আছেন। এর পেছনে মূল শেল্টারদাতা জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক মাহমুদুল হাসান তাপস।
স্বৈরাচারের দখলমুক্ত করার জন্য ধারে ধারে ঘুরেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. ইউসুফ হাসান। অবৈধ কমিটির দখল মুক্ত করার জন্য প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জেলা সমাজসেবা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুরহা হয়নি।
জানা যায়, নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার গোতাসিয়া ইউনিয়নের চুলা গ্রামে মনোহরদী প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থা ও মনোহরদী প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স বিদ্যালয়টি পহেলা জানুয়ারি ২০০৯ সালে ১১৩ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকার ৩০১ জন (শারীরিক, দৃষ্টি, বাকশ্রাবন, অটিজম) প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠদান করে আসছে। এ কাজে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সহযোগিতা করে আসছেন।
প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জীবন দক্ষতা প্রশিক্ষণ, বিশেষ শিক্ষা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুনামের সাথে পরিচালনা করছে। গত ০৫/০৩/২০২৩ইং তারিখে জেলা উপ-পরিচালক হতে একটি কমিটি অনুমোদন দেয়া হয় যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ০২/০৩/২০২৫ইং তারিখে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও। বর্তমান কমিটিকে বহাল রেখে ০১/০৪/২০২৪ইং তারিখে জেলা উপ-পরিচালক ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মিলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকজনকে দিয়ে প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক দখল করে নেয় পতিত সরকারের নেতাকর্মীরা। ওই সময় নতুন কমিটিকে অনুমোদন দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন সহকারী পরিচালক ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার।
এছাড়াও বিভিন্ন ভাবে অবৈধ কমিটির লোকেরা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসেবে থেকে টাকা উত্তোলন করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ ইউসুফ হাসান। বিভিন্ন জাগায় অভিযোগ করে সুরহা পাচ্ছে না।
পতিত স্বৈরাচারের মিত্রদের বিদায় করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও নরসিংদী জেলা সমাজসেবা অফিস এ ব্যাপারে কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি। যার ফলে সারা দেশ থেকে স্বৈরাচার বিদায় হলেও মনোহরদীর এই প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বলেন, স্বৈরাচারের পতন হলেও বিভিন্ন সেক্টরে এখনও তাদের কিছু প্রেতাত্মা রয়েছে যারা বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, জেলা সমাজসেবার ডিডি আমার কাছে মোটা অংকের ঘুস চেয়েছিলেন, আমি দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সে আমার কমিটি স্থগিত করে শিল্পমন্ত্রীর মেয়েকে কমিটির সভাপতি করেছেন, আমি এই সৈরাচারের অপসারণ চাই।
জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক মাহমুদুল হাসান তাপস বলেন বিষয় নিয়ে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটি সত্যি নয়, আমি কাউকে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেই নি, বিধি মোতাবেক কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
নরসিংদী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী বলেন, এ বিষয় আমরা এখনও কোন অভিযোগ পাইনি অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।