মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন

সুপারিশপ্রাপ্ত বিচারকদের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত গেজেটে নাম না আসায় গভীর মর্মবেদনা প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক নিশাত মনি। শনিবার রাত প্রকাশিত বিচার বিভাগীয় নিয়োগের গেজেটে নিজের নাম না দেখে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন, যা দ্রুতই ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
স্ট্যাটাসে তিনি জানান, শৈশবের সংগ্রাম, শিক্ষাজীবনের নিরলস পরিশ্রম এবং দীর্ঘ প্রস্তুতির পর অবশেষে গত ফেব্রুয়ারিতে সুপারিশপ্রাপ্ত বিচারকদের তালিকায় নাম দেখে তিনি জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনটি পেয়েছিলেন। সেই মুহূর্তটিকে তিনি বর্ণনা করেছেন— “পাইলাম! আমি ইহাকে পাইলাম!”
নিশাত লিখেছেন, শিশুতীর্থ বিদ্যাপিঠ থেকে শুরু হওয়া তার শিক্ষা যাত্রা ছিল লড়াই ও অধ্যবসায়ের এক দীর্ঘ পথ। ডিমলার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, এরপর কলেজ এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে অধ্যয়ন—সব জায়গায় তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন, লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে গেছেন। জুডিসিয়ারির প্রিলি, লিখিত ও ভাইভা—তিনটি ধাপই সফলভাবে অতিক্রম করেন তিনি।
কিন্তু গেজেট প্রকাশের সময় কাছের মানুষদের কাছ থেকে ‘নাম না থাকার’ আশঙ্কা শুনেও তিনি বিশ্বাস করেননি যে তার সঙ্গে এমন অন্যায় হতে পারে। নিশাতের ভাষায়—
“আমি তো কোনদিন রাজনীতি করিনি, ক্ষতি করিনি কারও। আমার গেজেট হবে না কেন?”
গেজেটে নিজের নাম না পেয়ে ভেঙে পড়ার মুহূর্তের বর্ণনায় তিনি লিখেছেন, প্রথম কয়েক মিনিট স্তব্ধ হয়ে থাকার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
“হাউমাউ করে কেঁদেছি। বারবার জিজ্ঞেস করছিলাম, ‘আমার গেজেট হলো না? আমার?’”
নিজেকে রাজনীতি-বহির্ভূত এবং পরিচ্ছন্ন প্রেক্ষাপটের একজন ছাত্রী দাবি করে নিশাত প্রশ্ন তুলেছেন—
“কী দোষ আমার? কী অপরাধ করেছি? কীসের শাস্তি পাচ্ছি আমি?”
তিনি আরও লেখেন, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে পড়াশোনা করা একজন আইন শিক্ষার্থী হিসেবে এমন বঞ্চনা তার জন্য চরম মানসিক আঘাতের।
“একটা কলমের খোঁচায় আমার জীবন থেকে সব আলো কেড়ে নেওয়া হলো—জানি না কেন।”
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি জানান, ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন না, তবে এই বেদনা আর চেপে রাখতে পারেননি।
“আমাকে আমার অধিকার বঞ্চিত করে খুব উপকার হলো তোমার, বাংলাদেশ?”—প্রশ্ন রেখে লেখাটি শেষ করেন নিশাত মনি।
গেজেট থেকে তার নাম বাদ পড়ার কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই নিশাত মনির প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন।