মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদের রড চুরি করে বিক্রি করে যুবলীগ নামধারী এবং ডিবি পুলিশের সোর্স পরিচয়ধারী মিজানুর রহমান মিজান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে এমন কোনো অপকর্ম নাই যা সে করে নাই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপি তথা এলাকার সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে টাকা পয়সা উপার্জন ছিল তার পেশা। মূলত আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে যত প্রকার অবৈধ পন্থা রয়েছে তার সবকিছুই ব্যবহার করে বনে যান একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। এখন প্রশ্ন হলো – কে এই মিজান শিকদার ? মিজান কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ৮ নং মারিয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদির শিকদারের ছেলে। গত ৪ঠা আগস্ট ২০২৪ তারিখে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী সাবেক ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম কর্তৃক গত ১৬ ই অক্টোবর ২০২৪ ইং সালে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলায় মিজান শিকদারকে ৩০ শে ডিসেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে “উবাই পার্ক” কিশোরগঞ্জ থেকে RAB -14, সিপিসি – ২ কিশোরগঞ্জের একটি আভিযানিক দল গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর থেকে বিতর্কিত কথিত সোর্স মিজানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে। বেরিয়ে আসতেছে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের আমলনামা। জনস্বার্থে অনুসন্ধানে গেলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন যুবলীগ নামধারী মিজান শিকদার তার নিজ গ্রামবাসীর উপর জুলুম , নির্যাতন ও অত্যাচার করতো। বিভিন্ন জায়গায় সে নিজেকে ডিবি, পুলিশ ও RAB এর চেয়েও ক্ষমতাধর ব্যক্তি বলে জাহির করতো। RAB, ডিবি তথা পুলিশের গাড়িতে ঘুরে বেড়াতো এবং সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা ছিল তার পেশা। মানুষ সবসময় মিজান শিকদার এর ভয়ে দিন যাপন করতো। মিজান তৈরি করেছিল বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। মিজান জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় তাঁর অপকর্ম শুরু করে দেয়।যার ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদের (নির্মাণাধীন) চুরিকৃত রড গত ২৮ শে অক্টোবর মঙ্গলবার গোপনে বিক্রি করে ভ্যানে তুলে দেওয়ার সময় সাধারণ জনগণের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে মিজান শিকদার। তখন ভ্যানে থাকা লোক স্বীকার করে বলেন যে, এগুলো মসজিদের রড কথিত সোর্স ও যুবলীগ নেতা মিজান শিকদার বিক্রি করেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যক্ষদর্শী ও উপ-ঠিকাদার আঞ্জু মিয়ার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার (০১৯৪৮০১৩২৪৫), আরেক উপ-ঠিকাদার আবু বাক্কার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার (০১৯১৬৩৩০৬৪৮), কিশোরগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদের ম্যানেজার অরুণ সরকার বাবু (০১৭২৯৭১০৩৩১) ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার ছাড়াও সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুর ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে (০১৯১৬৮৮৭০৫৬) এদের সাথে কথা বলে ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে, রড চুরির ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। তবে ম্যানেজার অরুণ বাবু বলতে চাচ্ছেন যে, ৫ নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি মেম্বার তানভীর আহমেদ ওরফে উজ্জ্বল বিষয়টা মিমাংসা করার কথা বলেছেন। এই জন্য তিনি থানায় অভিযোগ দেননি । তবে , ম্যানেজারের কথায় বোঝা যায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে ! এছাড়াও, মিজানের বিভিন্ন অপকর্মের বিষয়ে দৈনিক সংবাদ সারাবেলায় গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে । এর আগে মিজান শিকদার নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলায় গ্রেফতার হয় যা দৈনিক সংবাদ সারাবেলা পত্রিকার অনলাইনে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং তারিখে প্রকাশিত হয় । তাছাড়াও, মিজানের নানা ফৌজদারি অপরাধের বিরুদ্ধে গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং তারিখে দৈনিক বাংলাদেশ কন্ঠ পত্রিকায় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এখানেই শেষ নয়, মিজান শিকদার এর সহোদর ছোট ভাই মকবুল হোসেন বিদ্যুৎ চুরির মামলায় জরিমানা দিয়ে মুক্তি পায়, বিদ্যুৎ মামলা নাম্বার : ৮০৬/২৩ । কিশোরগঞ্জ জেলা মডেল মডেল মসজিদের রড চুরি করতে গিয়ে সাধারণ জনগণের ধাওয়া খেয়ে মিজান শিকদার পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর একটাই দাবি, সন্ত্রাসী মিজান শিকদারকে আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায়, সমাজে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাবে।