মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসি ঘাট। এক সময়ের ব্যস্ততম নদীঘাট, এখনো প্রতিদিন হাজারো মানুষ নৌকায় পারাপার হয় এই ঘাট দিয়ে। নদীর ঢেউ, বাতাস আর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে রবিবার রাতটা যেন ভিন্ন এক আবেগে ভরে উঠেছিল।
“আসো বাহে বালাসি বাচাই” — এই হৃদয়ছোঁয়া স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ব্রহ্মপুত্রের তীর। বালাসি ঘাট হতে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত সড়ক ও রেল সেতু বাস্তবায়নের দাবিতে মশাল মিছিলের আয়োজন করে সড়ক ও রেল সেতু বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটি, গাইবান্ধা।
রাত ৮টার দিকে ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে মানুষ হাতে মশাল নিয়ে জড়ো হয় বালাসি ঘাটে। নদীর ওপারে জ্বলজ্বল করা আলোর প্রতিফলন যেন জানিয়ে দিচ্ছিল—এই আলো শুধু মশালের নয়, এটি একটি দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতীক।
মশাল মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন,
“দুই জেলাকে সংযুক্ত করতে বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়—এটি হবে উত্তরাঞ্চলের জীবনরেখা, উন্নয়ন ও সংযোগের নতুন দিগন্ত।”
এসময় বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা শ্রমিক দলের সদস্য সচিব হুন্নান হক্কানী, ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ. এম. সোলায়মান, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফারুক মিয়া, এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আসিফ সাজ্জাদ ছোটনসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা আরও বলেন,“প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও ব্যবসায়ী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হয় এই নদী। একটি সেতু হলে বদলে যাবে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা।”
রাত বাড়লেও নদীর তীরে মানুষের স্লোগান থামেনি—
“সেতু চাই, উন্নয়ন চাই”,
“বালাসি-বাহাদুরাবাদ সেতু চাই, জীবনের নিরাপত্তা চাই”।
স্থানীয়রা জানান, এই আন্দোলন কেবল একটি অবকাঠামোর দাবি নয়, এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জমানো স্বপ্নের বাস্তবায়নের ডাক।
ব্রহ্মপুত্রের বুকে প্রতিফলিত আগুনের আলোয় ভেসে ওঠে একটাই প্রত্যয়—
“আসো বাহে বালাসি বাচাই”,
একটি সেতু হোক সংযোগের, সম্ভাবনার, জীবনের প্রতীক।