মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন ও মিঠাপুকুর সীমান্ত ঘেঁষে বাদলের ঘাট এলাকায় চাঁপুল শাহের আমবাগানে চলছে ভয়াবহ পরিবেশবিনাশী অবৈধ সিসা তৈরির কারখানা। পুরাতন ব্যাটারি আগুনে পুড়িয়ে সিসা আলাদা করার এই অপরাধমূলক কার্যক্রমে ছড়িয়ে পড়েছে মারাত্মক রাসায়নিক বর্জ্য—ফলে ইতোমধ্যে শতাধিক গরু মারা গেছে এবং অসংখ্য মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়কের দু’পাশ অবরোধ করে মানববন্ধন করেন। শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, চাঁপুল শাহের আমবাগানে তার ভাতিজা তুহিন শাহার নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন ট্রাকে করে পুরাতন ব্যাটারি এনে আগুনে পুড়িয়ে সিসা তৈরি করছে গাইবান্ধা জেলার লোকজন।
এসব ব্যাটারির সীসা ও রাসায়নিক বর্জ্য বাগানের চারপাশে ফেলে রাখায় আশপাশের গরু-ছাগল ঘাস খেয়ে মারা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক গরু মারা গেছে, আরও বহু প্রাণী অসুস্থ।
প্রতিবাদকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই কারখানাটি শুধু পশুপাখিই নয়, এলাকার মানুষের জীবনকেও বিপন্ন করে তুলেছে। বাতাস, মাটি ও পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত সীসা—যার প্রভাবে শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, কিডনি ও হার্টের জটিলতায় ভুগছেন।
তারা অভিযোগ করেন, বহুবার স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির মুখে এলাকাবাসী আজ রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রতিবাদকারীরা অবিলম্বে অবৈধ সিসা কারখানা বন্ধ, মালিকদের গ্রেপ্তার এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোর দাবি জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আশিকুল আরেফিন বলেন, ব্যাটারির সীসা ও রাসায়নিক বর্জ্য প্রাণী ও মানুষের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক। এতে হার্ট, কিডনি, শ্বাসযন্ত্র, ত্বক ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করছে, যা অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে বিপর্যয় নেমে আসবে।
জানা গেছে, এই অবৈধ সিসা কারখানার মূল মালিক গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার বাসিন্দা তারা হলেন:-
১. মোঃ জাকিরুল ইসলাম (চাঁপুল), পিতা: বাবলু গ্রাম: গজারিয়া।
২. আশিকুল ইসলাম আশিক, পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: গজারিয়া।
৩. মোঃ রাব্বি, পিতা: মোহাম্মদ আলী, গ্রাম: গজারিয়া।
৪. মোঃ এনামুল, পিতা: মোহাম্মদ আলী, গ্রাম: গজারিয়া।
৫. মোঃ আমরুল, পিতা: ভোলা, গ্রাম: গজারিয়া।
৬. মোঃ এরশাদ আলী, পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: হাপানিয়া।
এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজ এবং কৃষকরা দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে এই অবৈধ সিসা কারখানা বন্ধ করে মালিক ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণ ও প্রাণহানির দায়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
“(২ নভেম্বর), রবিবার এলাকাবাসীরা জানান, মানববন্ধন হওয়ায় কারখানার লোকজন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তরা এখনো কোনো বিচার পাননি।”
স্থানীয়রা রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বদরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যেন এই ভয়াবহ পরিবেশ-অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি পান।