মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

মহেশখালীতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে তিন হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দুই অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ঘটনায় হেফাজতে ইসলাম বাদি হয়ে ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফেসবুকে একটি পোস্টে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশের পর মহেশখালীজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। রাতেই বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল হয়, এবং শুক্রবার জুমার নামাজের পরও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে।
ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাতেই এক বার্তায় জানানো হয়- অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক দুই যুবক হলেন- উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ঠাকুরতলা গ্রামের মৃদুল কান্তি দে’র পুত্র আসীম দে এবং মহেশখালী পৌরসভার বিজয়রাম সরদারপাড়া এলাকার রাখাল দে’র পুত্র উত্তম কুমার দে। তাদেরকে ঠাকুরতলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। একই গ্রামের কালীপদ দে’র পুত্র বিপ্লব দে’কে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। উত্তম মহেশখালী কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং আসীম ও বিপ্লব তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে জানা গেছে। এ তিনজনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা দায়ের হয়েছে।
এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এরইমধ্যে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়। তবে প্রশাসনের অনুরোধ উপেক্ষা করে বাদ জুমা মহেশখালীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীদের একাধিক গ্রুপ উপজেলা সদরে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
ফেসবুকে বিতর্কিত মন্তব্যটি করা হয় মোহাম্মদ আদিলুল ইসলাম আকিব নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর একটি পোস্টে, যেখানে তিনি লিখেছিলেন- “ইসকন হটাও, দেশ বাঁচাও।” সেই পোস্টে এসে আসীম দে, উত্তম কুমার দে ও বিপ্লব দে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মঞ্জুরুল হক জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের রিমান্ড আবেদন করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় হেফাজতে ইসলাম নেতা মাওলানা মোকাররম বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্ত করছেন মহেশখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সেলিম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হেদায়েত উল্যাহ বলেন, ধর্মীয় উসকানিমূলক যেকোনো মন্তব্য আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সবাইকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্রিয় ছিলেন।
এদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পুরো মহেশখালীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং নৌবাহিনীর টহল অব্যাহত আছে।