মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে প্রায় সাত মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ড্রপ টেস্ট। কিট সংকটের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন, নতুন চাকরি ও সরকারি নানা কাজে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সনদ প্রত্যাশীরা। বাধ্য হয়ে অন্য জেলায় ছুটছেন তারা এতে ব্যয় হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ ও সময়।
জানা যায়, গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ড্রপ টেস্ট। প্রায় সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে কিট না থাকায় বন্ধ রয়েছে এই সেবা। প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ন এ সনদের আশায় টেষ্ট করতে হাসপাতালে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন সনদ প্রত্যাশিরা ।
কিট সংকটের কারণে মাসের পর মাস ড্রপ টেস্ট করাতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন ড্রাইভিং লাইসেন্স, চাকরি আবেদন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রত্যাশীরা। কিট না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকে রংপুর বা বগুড়ায় গিয়ে করাচ্ছেন টেস্ট। এতে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা, পাশাপাশি একাধিক দিন নষ্ট হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিনেও সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
জেলা হাসপাতালে ড্রপ টেস্ট করাতে আসা আমিনুল ইসলাম জানান, যে টাকা ড্রপ টেস্ট করাতে খরচ হতো এখন তার চেয়ে দ্বি-গুন টাকা অন্য জেলায় যাওয়া আসায় খরচ হচ্ছে। সাথে যোগ হয়েচে ভোগান্তি ও সময়। দ্রুত জেলার নিম্মআয়ের মানুষের জন্য ড্রপ টেস্ট চালু করা প্রয়োজন।
গাইবান্ধা জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মোত্তালেব সরকার বকুল অভিযোগ করে জানান, প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় তারা দীর্ঘদিন থেকে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ড্রপ টেস্ট বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি পরিবহন শ্রমিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বিআরটিএ গাইবান্ধা সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মোঃ কামাল আহমেদ কাজল জানান, জেলায় ড্রোপ টেষ্ট বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা। সকল কাজ সঠিক সময়ে শেষ করলে টেষ্ট সনদ পেতে দেরি হওয়ায় নতুন লাইসেন্স বা নবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ( আরএমও) ডা: মো: আসিফ জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রনলায় থেকে ড্রপ টেস্ট কিট সরবরাহ বন্ধ থাকায় সেবা দিতে পারছেন না তারা। সেই সাথে নতুন করে কিট কেনার জন্য দরপত্র প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতি মাসে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে প্রায় ৫ শতাধিক ড্রপ টেষ্ট হয়ে আসছিল