মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষকদের উপযোগী জাত হিসেবে স্বল্প মেয়াদী ও খরা সহিষ্ণু বিনাধান-১৭ চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগে নীলফামারীর ডিমলায় অনুষ্ঠিত হলো কৃষক মাঠ দিবস।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে আরডিআরএস বাংলাদেশ-এর “কোর কম্প্রিহেনসিভ প্রোগ্রাম” এর আওতায় ডিমলা উপজেলার টেপা খড়িবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়িবাড়ি বানিয়াপাড়া গ্রামে এই কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরল উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আরডিআরএস বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অফিসার (কৃষি) রবিউল আলম, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সুপারভাইজার শফিকুল ইসলাম, টেপা খড়িবাড়ি ইউনিয়ন ফেডারেশনের সদস্য ও এলাকার অগ্রণী ধানচাষিরা।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন টেপা খড়িবাড়ি ইউনিয়ন ফেডারেশনের চেয়ারম্যান জিকরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিবৃন্দ প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন ও ধান কাটার উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনী প্লটের কৃষক ফুলমন বেগম তার জমিতে বিনাধান-১৭ চাষের অভিজ্ঞতা ও উৎপাদন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, বিনাধান-১৭ একটি উচ্চ ফলনশীল, খরা সহনশীল ও স্বল্প মেয়াদী আমন ধানের জাত, যা বর্তমান পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে অত্যন্ত উপযোগী। প্রজনন পর্যায়ে টানা ১৫-২০ দিন বৃষ্টি না হলেও এর ফলনে তেমন প্রভাব পড়ে না। এমনকি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭০-৮০ সেন্টিমিটার নিচে পানির স্তর নেমে গেলেও এবং মাটির আর্দ্রতা ২০ শতাংশের নিচে থাকলেও এই জাতটি ভালো ফলন দিতে সক্ষম।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন,
“বিনাধান-১৭ উত্তরাঞ্চলের জন্য একটি আশীর্বাদস্বরূপ ধানের জাত। এটি খরা সহিষ্ণু হওয়ায় কৃষকরা নিরাপদে আমন চাষ করতে পারছেন। ধানটি আগাম পরিপক্ব হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়, পাশাপাশি এর খড় গবাদি পশুর জন্য মানসম্মত খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়।”
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত কৃষকরা বিনাধান-১৭ চাষের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং এ জাতের চাষ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান