মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন

বানিজ্য প্রতিবেদক:
গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি জানিয়েছে, ২০২২ সালে কেবল এমএফএসের মাধ্যমে আনুমানিক ৭৮০ কোটি ডলার অর্থাৎ প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়। । টিআইবির গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যক্তিগত এমএফএস হিসাবধারীদের ৬ দশমিক ৩ শতাংশ, এজেন্ট হিসাবধারীদের ১৭ শতাংশ ও মার্চেন্ট হিসাবধারীদের ১ দশমিক ৬ শতাংশ জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার হয়েছে। সেই সঙ্গে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন যথাক্রমে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, ৮৭ শতাংশ ও ১ দশমিক ৪ শতাংশ হিসাবধারী।
জালিয়াতি বা প্রতারণার শিকার হয়ে ব্যক্তিগত হিসাবধারীদের সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮৩ হাজার টাকা; এজেন্টদের সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ও মার্চেন্ট হিসাবধারীদের সর্বনিম্ন ৫৩ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
টিআইবির গবেষণায় আরও দেখা গেছে, থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেড/নগদ লিমিটেড–সংশ্লিষ্ট এমএফএস বিধিমালার ‘ই-মানি’ ও ‘ট্রাস্ট-কাম-সেটেলমেন্ট’সংক্রান্ত ধারা উপেক্ষা করে ট্রাস্ট ফান্ডে জমা করা অর্থের সীমা অতিক্রম করে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪৫ কোটি টাকার ই-মানি তৈরি করেছে। এই বিধি লঙ্ঘন গ্রাহকদের অর্থের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে মনে করে টিআইবি।
মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবার (এমএফএস) মাধ্যমে দেশ থেকে অর্থ পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি। অর্থাৎ এই সেবার অপব্যবহার হচ্ছে।
ভাতা ও উপবৃত্তি বিতরণে আর্থিক জালিয়াতি, নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ই-মানি সৃষ্টির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে প্রায় ২ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা নগদ লিমিটেডের বেনামি শেয়ারহোল্ডারদের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
টিআইবি গবেষণা করে দেখিয়েছে, এমএফএস খাতের গ্রাহকদের পরিষেবা পেতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তুলনায় প্রায় ৭ থেকে ১৫ গুণ (৬ দশমিক ৯ থেকে ১৫ দশমিক ৯ গুণ) বেশি মাশুল দিতে হয়। তাদের হিসাব, ২০২৪ সালে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫ দশমিক ৫ লাখ কোটি টাকার ‘ক্যাশআউট’ বাবদ সর্বনিম্ন ৪ হাজার ৪১০ কোটি টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সেই তুলনায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এ বাবদ আয় অনেক কম। টিআইবি হিসাব করে দেখাচ্ছে, একই পরিমাণ নগদ উত্তোলনের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মাত্র ৬৩৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে পেরেছে। এমনকি কিছু প্রতিবেশী দেশের মধ্যেও বাংলাদেশে এমএফএস পরিষেবা মাশুল সর্বোচ্চ।
বিশেষ করে, বিকাশ ও নগদ বাজারের সিংহভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে (ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টধারীদের ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ বিকাশ ও ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ নগদ)।
ঘুষ, অর্থ পাচার, অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনে এমএফএস ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের যে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ এমএফএস ব্যবহার করে অবৈধ হুন্ডি লেনদেন নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলের আলোকে টিআইবির ১৩ দফা সুপারিশ করেছে।