মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন

রিপোর্টঃ লোকমান হোসেন
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া প্রথম শ্রেণির পৌরসভা এবং বরিশাল বিভাগের ২৬ তম ও পিরোজপুর জেলার ৪র্থ পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও কোনো নাগরিক সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন পৌরবাসী। তারা বলছেন পৌর এলাকার অধিকাংশ রাস্তা ঘাট খানাখন্দ থাকায় চলাচলের চরম অনুপযোগী এবং পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড এলাকায় ১০ টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থাকলেও সবগুলো সচল না থাকায় তীব্র সুপেয় পানির সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পৌর এলাকার মানুষের দৈনন্দিক জীবন।
২০১৫ সালে ইউনিয়ন থেকে পৌরসভায় উন্নীত হয় ভান্ডারিয়া, তার পূর্বে নৌপথে যোগাযোগ সচল ছিল। স্লুইস গেট নব্যতা সহ নানা কারনে কালের বিবর্তনে সেই নৌপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা আজ হারিয়ে গেছে। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ৮বছর পর ২০২৩ সালে এসে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়ার পরও দীর্ঘ সময়ে ঘটেনি এর বাহ্যিক কোন পরিবর্তন। মূল শহরসহ পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তাই ভাঙ্গা ও চলাচলের অনুপযোগী। কখনো কিছু মেরামত হলেও নিম্নমানের কারণে তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। শহরের প্রধান ১টি খাল ভুবনেশ্বর অবৈধ দখলদারদের দখলে থাকায় ভান্ডারিয়া পরিণত হয়েছে জলাবদ্ধ শহরে।
পৌর সভার ৩নং ওয়ার্ড পোস্ট অফিস রোডের ব্যবসায়ী মো: মোস্তফা মুন্সি বলেন, আমাদের এই পোষ্ট অফিস সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ এবং অবহেলিত তাই মানবতার সেবার চিন্তা করে ফারনিচার ব্যবসায়িদের উদ্যোগে কিছু ইট বালু দিয়ে মেরামত করেছি। পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোহাগ সরদার বলেন, আমার বাড়ির সামনের সড়কটি হচ্ছে ভুবনেশ্বর খালের ব্রীজ হয়ে কৈখালী বানাই চলাচলের সড়ক ভাংগা খানা- খন্দ, বছরের পর বছর অতিবাহিত হলেও মেরামত হচ্ছে না এবং পাশের ভুবনেশ্বর খালে এমন ভাবে ময়লা, বর্জ্য ফেলা হয় যে মশা মাছি ও দুর্গন্ধের কারণে ঘরে থাকা এখন রীতিমত কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কানুয়া এলাকার আরেক বাসিন্দা জাকির হোসেন সিপাহী বলেন, শুনেছি আমরা নাকি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় বসবাস করি। কিন্তু নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বলতে যা বুঝায়, কিছুই পাই না। এর থেকে ইউনিয়নে বসবাস করাও অনেক ভাল। প্রতিবছর শুধু ট্যাক্স দিচ্ছি কোন সেবা পাচ্ছি না তিনি আরও বলেন এতদিন পৌর সুবিধার মধ্যে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে সুপেয় পানি টুকু পেতাম তাও এক বছরের বেশী সময় নষ্ট রয়েছে, নেই মেরামতের কোন উদ্যোগ এবং এর বিপরীতে অত্র এলাকার গভীর নলকূপ বরাদ্দ দেয়নি পৌর প্রশাসক।
ভান্ডারিয়া পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, বাসষ্ট্যান্ড ও কানুয়া দুইটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট অকেজ আছে। পৌর সভার সকল সমস্যা সমাধানের জন্য শীঘ্রই উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র দেয়া হবে। বরাদ্ধ পাওয়া মাত্র পৌর সভার কাজ শুরু করা হবে। তাহলে পৌর বাসীর সমস্যা সমাধান হবে।