(রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ ও অসদাচরণের অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি)
রাজধানীর দক্ষিণখান আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন (জয়)-এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ, সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক অভিভাবক, ছাত্রী ও কয়েকজন শিক্ষক এসব অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন। তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রভাব খাটানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, অতীতে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করতেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ফুল ইসলাম (ফুলু)-এর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটি ও কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডে কথিত হস্তক্ষেপের কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলেও তারা দাবি করেন।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন (জয়)-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীদের কেউ কেউ। ওই সময় তার কোনো ধরনের ভূমিকা ছিল কি না, থাকলে তা কী ধরনের—সেটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীরা বলছেন, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় বা স্থানীয় প্রভাব ব্যবহার করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারেন না। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মপরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন (জয়)-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। একইভাবে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ফুল ইসলাম (ফুলু)-এর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষকে দায়ী করার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
চলবে—