গাজীপুরের টঙ্গীর বিসিক শিল্পাঞ্চলের ফাইজা বাটন এন্ড জিপার কোম্পানিকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর অভিযুক্তদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানান জাতীয়তাবাদী সাইবার দল গাজীপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক আরাফ রিফাত এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৪ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও নেতাকর্মীরা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জামিন পাওয়ায় তারা আদালতের প্রতি আস্থা প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে তারা মামলার তদন্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দায়ের করা হয়েছে। তাদের মতে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করা হলে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং নির্দোষ ব্যক্তিরা আইনি হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামলায় আসামি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বুলু, কাজী দাউদসহ কয়েকজন রয়েছেন। তাদের সমর্থকদের ভাষ্য, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, আইন ও বিচারব্যবস্থা যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির মাধ্যম না হয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। তারা বলেন, অভিযোগের চেয়ে প্রমাণই বিচারিক প্রক্রিয়ায় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
এ সময় দলীয় সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তাদের মতে, কেবল মামলায় নাম থাকা মানেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। তাই তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি তারা উল্লেখ করেন, দলীয় পদ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা লিখিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিতরা আশা প্রকাশ করেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে। এতে যেমন অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে, তেমনি নির্দোষ ব্যক্তিরাও ন্যায়বিচার পাবেন এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।